নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: নির্বাচন কমিশনের তুঘলকি সিদ্ধান্তে রীতিমতো ক্ষুব্ধ কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারের পোস্ট অফিসের ৪৭ জন কর্মী। রাত পোহালে দ্বিতীয় দফার ভোট। দক্ষিণবঙ্গে সেই ভোটের ডিউটি করতে হবে বলে সোমবার সকালে তাঁদের কাছে নির্দেশিকা আসে। কোচবিহার থেকে প্রায় ৭০০ কিমি দূরে কীভাবে ভোটের ডিউটি করতে যাবেন, তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়ে যান তাঁরা। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও তাঁরা কোনো সুরাহা করতে পারেননি। এত দূরের রাস্তা কীভাবে যাবেন, তারও কোনো সদুত্তর না পেয়ে অবশেষে একটি বাস ভাড়া করে তাতেই রওনা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় সরকারে চাকরি করা এই ভোটকর্মীরা। বাসে ৩০-৩২ জন যাচ্ছেন। বাকিরা নিজেদের মতো করে রওনা দিয়েছেন। কীভাবে এত কম সময়ের নোটিসে এত দূরের জেলায় ভোটের ডিউটি দেওয়া হল, তা নিয়ে রীতিমতো হতবাক ওই ডাককর্মীরা।
কোচবিহার হেড পোস্ট অফিসের অ্যাকাউন্ট্যান্ট অনির্বাণ চৌধুরী বলেন, সকালেই হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে জানতে পারি, ভোটের ডিউটি এসেছে। উত্তর ২৪ পরগনায় যেতে হবে। কোনো চিঠি পাইনি। অফিসে গিয়ে জানতে পারি কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার পোস্টাল ডিভিশনের ৪৭ জনের ডিউটি এসেছে। বুধবার ভোট। মঙ্গলবার রিপোর্টিং করতে বলেছে। যাব কী করে? জানতে জেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছিলাম। কিন্তু কোনো গাড়ি দেওয়া হয়নি। এরপর নিজেরাই বাস ভাড়া করেছি। এটা একেবারেই তুঘলকি সিদ্ধান্ত। ভোটের ডিউটি করতে সমস্যা নেই। কিন্তু শেষ মুহূর্তে জানানোতেই সমস্যায় পড়েছি।
কোচবিহারে ভোটের ডিউটি করতে গিয়ে গাড়ির সমস্যায় পড়তে হয়েছিল দিনহাটার ভোটকর্মীদের। এবার কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারের ডাক বিভাগের কর্মীদের হঠাৎ করেই ৭০০ কিমি দূরের জেলায় ভোটের ডিউটি দেওয়া হল। যদিও নিজেদের উদ্যোগে বাস ভাড়া করে তাঁরা রওনা হয়েছেন। যাতে সময় মতো ভোটের ডিউটিতে যোগ দিতে পারেন। তবে কোচবিহারের অতিরিক্ত জেলাশাসক দীননারায়ণ ঘোষের বক্তব্য, এই সমস্যার কথা জানার পর আমরা গাড়ির বন্দোবস্ত করেছিলাম। কিন্তু ওই কর্মীরা পরে আর যোগাযোগ করেননি।