ভোটে হয়রানির জবাব দিয়েই ভিনরাজ্যে কর্মস্থলের পথে কান্দির পরিযায়ী শ্রমিকরা
বর্তমান | ২৮ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদদাতা, কান্দি: ভিনরাজ্য থেকে ভোট দিতে বাড়ি এলে কারো একসপ্তাহ, কারো ১৫দিন কাজ কামাই হয়। ফলে পাঁচ থেকে ১৫হাজার টাকার লোকসান হয়। তা সত্ত্বেও নাম কাটার ভয় ও এসআইআর-হয়রানির জবাব দিতে বাড়ি ফিরেছিলেন কান্দি মহকুমার পরিযায়ী শ্রমিকরা। ভোট মিটতেই তাঁরা ভিনরাজ্যে কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা দিতে শুরু করেছেন।
বহু বছর ধরে কান্দি মহকুমার বিভিন্ন এলাকার পরিযায়ী শ্রমিকরা ভিনরাজ্যে কাজ করেন। কেউ মুম্বই, কেউ দিল্লি, বেঙ্গালুরু, চেন্নাইয়ে কর্মরত। তবে শুধু চাকরিই নয়, ব্যবসার সূত্রেও অনেকে ভিনরাজ্যে থাকেন। যেমন ঝাড়খণ্ড, বিহার, উত্তরপ্রদেশে চুলের ফেরি করেন কান্দি মহকুমার অনেকে। এছাড়া, এই মহকুমার প্রচুর নির্মাণশ্রমিক কেরলে কাজ করেন।
রাজ্যে এসআইআর শুরুর পর এই সমস্ত পরিযায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক নেমে এসেছিল। অনেকে লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির নোটিস পেয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন। আবার অনেকে ভোটের কয়েকদিন আগে গ্রামে ফিরেছেন। এসআইআর আতঙ্ক বেশিরভাগ পরিযায়ীর মনে গেঁথে রয়েছে। তাই অনেক টাকা খরচ, যাতায়াতের ভোগান্তি সত্ত্বেও তাঁরা ভিনরাজ্য থেকে ভোট দিতে ফিরেছিলেন।
ভরতপুর থানার তালগ্রামের শ্রমিক সাকিবুর রহমান বলেন, তিনবছর ধরে কেরলে নির্মাণশ্রমিকের কাজ করছি। ২০০২সালে ভোটও দিয়েছি। তারপরও শুনানির নোটিস পেয়েছিলাম। তাই নাম কাটা যাওয়ার আশঙ্কায় কোম্পানি থেকে ছুটি নিয়ে বাড়ি ফিরেছি।
বড়ঞার বধূয়া গ্রামের আতিকুর শেখ বলেন, ভোট না দিলে নাম কাটা যাবে ভেবে বাড়ি চলে এসেছি। এর জন্য প্রায় ১৫দিনের মাইনে কাটা যাবে। সবমিলিয়ে, ১৫হাজার টাকার লোকসান হল।
আতিকুরের মতো অনেকেই রোজগার কমে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। ভরতপুরের সিজগ্রামের শুভম শেখ মুম্বইয়ে মাংসের দোকানে কাজ করেন। ভোট দিতে আসার জন্য তাঁরও প্রায় ১৫দিন কাজ কামাই গেল। কান্দির সহিসপাড়ার আমিরুদ্দি শেখ ঝাড়খণ্ডে চুলের ফেরি করেন। ১০দিন বাড়িতে থাকায় তাঁর প্রায় পাঁচহাজার টাকা লোকসান হয়েছে।
ভোট মিটতেই পরিযায়ীরা কর্মস্থলের দিকে রওনা দিচ্ছেন। রবিবার সকাল ৯টায় সালার স্টেশনে দাঁড়িয়ে ছিলেন ভরতপুর থানার ইব্রাহিমপুরের বাসিন্দা সুকলাল শেখ, আনাই শেখরা। তাঁরা জানালেন, অবশেষে ভোট দিয়ে স্বস্তি পেয়েছেন। এবার আর হয়তো নাম কাটা যাওয়ার আশঙ্কা নেই। তাই নিশ্চিন্তে কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।