• ফেরার জন্য টিকিট মিলছে না, ব্যাপক ভিড় ট্রেনে, সমস্যায় জেলার পরি‌যায়ী শ্রমিকরা
    বর্তমান | ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ভোট মিটেছে। এবার কাজের জায়গায় ফেরার পালা। বিভিন্ন স্টেশনে পরিযায়ী শ্রমিকদের ভিড় আছড়ে পড়েছে। রিজার্ভেশন টিকিটের হাহাকার এবং জেনারেল কামরার অসহনীয় ভিড় পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য এক বিশাল বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে ট্রেন ধরে কাজের জায়গায় যাওয়ার বদলে বাড়ি ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। 

    এসআইআর নিয়ে আতঙ্কে ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করা যুবকরা ভোটের আগেই বাড়ি ফিরে আসেন। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, এসআইআরে ভোটার তালিকায় এবার নাম উঠেছে। এবার ভোট না দিলে যদি নাম ফের বাদ যায়! তীব্র রোদ ও গরম উপেক্ষা করে লাইনে দাঁড়িয়ে তাঁরা ভোট দিয়েছেন। কিন্তু ফলাফল বেরতে এখনও আটদিন। কিন্তু অতদিন কাজ না করলে সংসার চালাবে কী করে? তাই কাজের জায়গায় ফিরতে শুরু করেছেন তাঁরা।

    কিন্তু অসহনীয় ভিড় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মুরারই, নলহাটি সহ বিস্তীর্ণ এলাকার পরিযায়ী শ্রমিকদের কাছে। সোমবার অনেকেই কুলিক এক্সপ্রেস ধরার জন্য মুরারই ও নলহাটি জংশনে ভিড় জমিয়েছিলেন। কিন্তু যা ভিড় তাতে অনেকেই চাপতে পারেননি। কেরলে শ্রমিকের কাজ করেন মুরারইয়ের চাতরা গ্রামের কাঞ্চন মাল। মালিকের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন ভোট দিতে। সোমবার কর্মস্থলে ফিরে যেতে নলহাটি স্টেশনে কুলিক এক্সপ্রেস ধরতে এসেছিলেন। তিনি বলেন, এখানে বসে থাকলে তো চলবে না। আমার মতো আরও অনেক শ্রমিক কর্মক্ষেত্রে ফিরে যাচ্ছেন। কিন্তু টিকিট কেটেও জেনারেল কামরায় ভিড়ের চাপে উঠতেই পারলাম না। মালদহ থেকেই গোটা ট্রেন ভিড়ে ঠাসা। 

    চেন্নাইয়ে কাজ করেন নলহাটির শ্রীপুর গ্রামের সাফিউল্লা শেখ। তিনি বলেন, এবার ভোট দিতেই হত। অনেকদিন বাড়ি আসিনি। তাই ভোটের কিছুদিন আগেই বাড়ি চলে এসেছিলাম। এদিন কয়েকজন মিলে কাজে ফেরার জন্য নলহাটি স্টেশনে কবিগুরু এক্সপ্রেস ধরতে এসেছিলাম। কিন্তু যা ভিড় তাতে আটজন চাপতে পারলেও ১২জনের মতো চাপতেই পারলাম না। টিকিটের টাকা নষ্ট হল। তিনি বলেন, এভাবে তিনদিন ধরে স্টেশনে আসছি আর ফিরে বাড়ি যাচ্ছি। হাওড়া ও শিয়ালদহগামী প্রতিটি ট্রেনেই একই চিত্র। 

    এই অবস্থায় স্পেশাল ট্রেন চালানোর দাবি তুলেছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। মুরারই স্টেশনেও একই চিত্র। সেখানকার এক রেল আধিকারিক জানান, শুধু আজ নয়, তিনদিন ধরেই স্টেশনে পরিযায়ী শ্রমিকদের ভিড় বাড়ছে। ট্রেনের সংখ্যা নতুন করে বাড়েনি। তাই প্রতিটি ট্রেনের জেনারেল ও স্লিপার ক্লাসের কামরাগুলিতে এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। আরও কিছুদিন এই ছবি দেখা যাবে। প্রতিবার ভোটের পরই এই ছবি ধরা পড়ে। তবে এবার ভিড় অনেকটাই বেশি। যদিও এব্যাপারে জানতে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝিকে ফোন করা হলেও তিনি না ধরায় প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
  • Link to this news (বর্তমান)