নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: নারী সুরক্ষা নিয়ে রাজনৈতিক মঞ্চে তুফান তুলছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আর সেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনে থাকা সিআইএসএফের এক জওয়ানের বিরুদ্ধে নাবালিকাকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠল। আম খাওয়ানোর টোপ দিয়ে তার উপর নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ। কুলটির ইসিএলের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিআইএসএফ জওয়ানের এই কীর্তি প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড় শিল্পাঞ্চল। প্রশ্ন উঠছে, রক্ষকই কি তা হলে ভক্ষকের ভূমিকায়? কীভাবে এমন মানসিকতার লোক কেন্দ্রীয় বাহিনীর জাওয়ানের দায়িত্ব পালন করছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস, তৃণমূল। ভোট চলাকালীন যা নতুন করে অস্বস্তি বাড়িয়েছে বিজেপির। সোমবার নির্যাতিতা কন্যাশিশুটির মেডিক্যাল পরীক্ষা হয় আসানসোল জেলা হাসপাতালে। এদিকে, অভিযুক্ত জওয়ান রমাকান্ত বিশ্বকর্মাকে কুলটি থানার পুলিশ আসানসোল আদালতে তোলে। বিচারক তার জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।
জানা গিয়েছে, রবিবার কুলটির থানার শীতলপুর সিআইএসএফ ক্যাম্পের পাশে আম গাছে আম পাড়ছিল দুই নাবালিকা। তখনই অভিযুক্ত জওয়ান বলেন, তার কোয়াটারে রসালো আম রয়েছে। সেটা খাওয়ানোর টোপ দিয়ে ১০ বছরের ওই নাবালিকাকে কোয়ার্টারে নিয়ে যায়। এরপরই তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়ে বলে অভিযোগ। মেয়েটি কোনওরকমে কোয়ার্টার থেকে পালিয়ে আসে। ঘটনাটি জানাজানি হতে রাস্তায় নেমে আসেন সাধারণ মানুষ। প্রতিবাদে অবরোধ করেন তাঁরা। মেয়ের বাবার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করে জওয়ানকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে সিআইএসএফ সূত্রে খবর।
তা হলেও বিতর্ক থামছে না শিল্পাঞ্চলে। স্থানীয় রাজনীতিতে শীতলপুর পরিচিত নাম। সিবিআই অফিসাররা সিআইএসএফের শীতলপুর ক্যাম্পেই হাজির হতেন। সেখান থেকেই জওয়ানদের নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় অভিযানে যেতেন। এমন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এধরনের জওয়ানের থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিজেপির বিরোধী রাজনৈতিক দল গুলি। কুলটির তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী অভিজিৎ ঘটক বলেন, ‘কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলার নারী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কোন মুখে? তাঁর মন্ত্রকের জাওয়ানই এই ধরনের কাজে জড়িয়ে পড়ছেন। আসলে, অন্যকে দোষারোপ করতে গিয়ে জওয়ানদের মানসিক ও শরীরিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদাসীন থেকে গিয়েছে বিজেপি সরকার। কর্মীদের প্রতি কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।’ কংগ্রেসের জেলা সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তী বলেন, ‘আমরা ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও এই দায় এড়িয়ে যেতে পারেন না।’ কুলটির বিজেপি প্রার্থী অজয় পোদ্দারও বলেন, ‘অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা। আমরা চাই অভিযুক্ত জওয়ানের কঠোর শাস্তি হোক।’