পূর্বস্থলীতেই ভাড়া নিয়ে থাকবেন বসুন্ধরা প্রচারে এসে আশ্বস্ত করলেন অভিষেক
বর্তমান | ২৮ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: কলকাতায় কাউন্সিলার হওয়ার সুবাদে নিজের এলাকাকে মডেল করে তুলেছেন বসুন্ধরা গোস্বামী। পূর্বস্থলী উত্তরে জিতলে একইভাবে তিনি উন্নয়ন করবেন বলে রবিবারই জানিয়ে গিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আরও জানিয়েছেন, জেতার পর বসুন্ধরা এলাকাতেই ঘরভাড়া নিয়ে থাকবেন। তিনি এলাকাতে বসেই মানুষকে পরিষেবা দেবেন। পূর্বস্থলী উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে এবার তৃণমূল স্বচ্ছ ভাবমূর্তির একজনকে প্রার্থী করে মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছেন বলে কর্মীদের দাবি। প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই তিনি পূর্বস্থলীতে মাটি কামড়ে পড়ে রয়েছেন। প্রতিটি পঞ্চায়েত এলাকা চষে বেরিয়ে উন্নয়নের আশ্বাস দিয়েছেন। ভোটে জিতলে কোন কোন কাজ অগ্রাধিকার পাবে, সেই তালিকাও সামনে এনেছেন।
পূর্বস্থলী উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে মতুয়া ভোটারের সংখ্যা বেশি। এবার এই বিধানসভাকেন্দ্র থেকে বহু মতুয়া ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। তাঁদের পরিবারের লোকজনরা আতঙ্কে রয়েছেন। পাশাপাশি তাঁরা ক্ষোভে ফুঁসছেন। তাঁদের দাবি, বিজেপির পরিকল্পনাতেই নির্বাচন কমিশন এভাবে নাম বাদ দিয়েছে। পূর্বস্থলীর বাসিন্দা সুচিত্রা বসাক বলেন, খেতে পাই না পাই, কেউ অপমান করলে গায়ে লাগে। বিজেপি মতুয়াদের জন্য বহু কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তারা কিছুই করেনি। নাগরিকত্বর জন্য আবেদন করেও তা বহুজন পায়নি। এলাকার আর এক বাসিন্দা পার্থ দাস বলেন, আমরা শান্তিতে থাকতে চাই। বিজেপি আসা মানেই ওরা অশান্তি করবে। এই এলাকায় ওদের সংগঠন অনেক দিন ধরে রয়েছে। পঞ্চায়েতেও জিতেছিল। কিন্তু তেমন কাজ করেনি। যাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে, তাঁদের তারা বাংলাদেশ পাঠানোর হুমকি দিচ্ছে। মানুষ ওদের ভোট দিতে যাবে কেন?
স্থানীয়রা বলেন, এই বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপিও কোমর বেঁধে নেমেছে। তারাও প্রতিটি এলাকায় গিয়ে প্রচার সারছে। বিজেপি নেতা গোপাল চট্টোপাধ্যায় বলেন, তৃণমূল প্রতিটি প্রকল্পে দুর্নীতি করেছে। যাদের সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার কথা তারা তা পায়নি। সেই কারণেই ওরা ভয় পেয়েছে। দলের নেতা ভোট প্রচারে এসে ব্যক্তিগত আক্রমণ করছে।
স্থানীয়রা বলেন, ভোট প্রচারে তৃণমূল অনেক এগিয়ে ছিল। এই বিধানসভা কেন্দ্রের তিনটি পঞ্চায়েত মন্তেশ্বর ব্লকের মধ্যে রয়েছে। এই তিন পঞ্চায়েত তৃণমূলের ‘দুর্গ’ হিসাবে পরিচিত। লোকসভা নির্বাচনে ১২ হাজারের বেশি ভোটে এগিয়েছিল। এবারের নিার্বাচনেও এই এলাকা থেকে বিজেপি পিছিয়ে থাকবে। যদিও গেরুয়া শিবির তা মানতে রাজি নয়, তাদের দাবি, সংখ্যালঘু ভোট এবার তৃণমূলের দিকে সম্পূর্ণ যাবে না। সেটা তৃণমূলের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পূর্বস্থলী উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের কয়েকজন নেতা নিষ্ক্রিয় হয়ে রয়েছে। কিন্তু কর্মীরা একজোট হয়ে ময়দানে নেমেছে। খোদ তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীর হয়ে সার্টিফিকেট দেওয়ায় কর্মীদের মধ্যে জোশ আরও বেড়ে গিয়েছে।