পহেলগাম হামলার কায়দায় দুই ব্যক্তিকে ধর্ম জানতে চেয়ে তার পরে কলমা পড়ার নির্দেশ। পড়তে না পারায় ছুরি দিয়ে কোপানোর অভিযোগ এক যুবকের বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর ঘটনা মুম্বইয়ের মিরা রোড এলাকায়। ছুরির আঘাতে গুরুতর জখম হয়েছেন দুই নিরাপত্তারক্ষী। অভিযোগ, ধর্মীয় পরিচয় জানতে চাওয়ার পরে কলমা পাঠ করতে বলেছিল অভিযুক্ত। তা না পারায় হামলা হয়। সিসিটিভি দেখে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তের পরে মহারাষ্ট্র অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (ATS)-এর অনুমান, এটি সম্ভবত ‘লোন উলফ’ জঙ্গি হামলা। যুবকের সঙ্গে ISIS-এরও যোগসূত্র মিলেছে বলে খবর।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার ভোর ৪টে নাগাদ অভিযুক্ত জাইব জুবের আনসারি একটি নির্মীয়মাণ ভবনের সামনে ডিউটিতে থাকা দুই নিরাপত্তারক্ষী—রাজকুমার মিশ্র ও সুব্রত সেনের কাছে যায়। প্রথমে রাস্তা জিজ্ঞাসা করার ছুতোয় তাঁদের ধর্ম সম্পর্কে জানতে চায় এবং কলমা পাঠ করতে বলে। তারা তা করতে না পারায় ছুরি বের করে ঝাঁপিয়ে পড়ে জাইব।
পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে হামলার দেড় ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। হামলায় গুরুতর জখম দুই নিরাপত্তারক্ষীর মধ্যে রাজকুমার মিশ্রের অবস্থা আশঙ্কাজনক। অন্যদিকে, সুব্রত সেন কোনওরকমে প্রাণ বাঁচিয়ে একটি কেবিনে আশ্রয় নেন। পরে দু’জনকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত জাইব আনসারি ২০১৯ সাল পর্যন্ত পড়াশোনার কারণে আমেরিকায় ছিল। এর পরেই ৩১ বছর বয়সি যুবক ভারতে ফিরে আসে। থাকত আনসারি মীরা রোডের ভাড়া বাড়িতে। সেই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে এবং অভিযুক্ত জাইবের কাছ থেকে কিছু নোট উদ্ধার হয়েছে, যেখানে ‘ISIS’, ‘জিহাদ’, ‘গাজা’ ইত্যাদি শব্দ লেখা ছিল। এ ছাড়া চিঠিতে সে জঙ্গি সংগঠন ISIS-এ যোগ দেওয়ার ইচ্ছার কথা লিখেছিল। এমনকি এই হামলাকেই সে ‘প্রথম পদক্ষেপ’ বলে উল্লেখ করেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, জাইব অনলাইনে নিয়মিত আইএসআইএস-সম্পর্কিত ভিডিয়ো দেখত। তার ওয়াচ লিস্ট থেকে সামনে এসেছে একাধিক বিস্ফোরক তথ্য। জঙ্গি মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ‘লোন উলফ’ ধরনের জঙ্গি হামলার চেষ্টা কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের অনুমান, অনলাইন মাধ্যমে উগ্রপন্থী মতাদর্শে প্রভাবিত হয়ে থাকতে পারেন সে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, জাইব মীরা রোডে একাই থাকত এবং অনলাইনে কেমিস্ট্রি পড়াত সে। তদন্তকারীরা এখন তার মোবাইল ও ল্যাপটপ খতিয়ে দেখছেন—কোনও আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্ক বা হ্যান্ডলারের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল কি না তা জানার জন্য। পুলিশের মতে, এটি পরিকল্পিত বড়সড় চক্রের অংশ, নাকি সম্পূর্ণ এককভাবে চালানো ‘লোন উলফ’ হামলা—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হলেও প্রশাসন সাধারণ মানুষকে গুজব না ছড়ানোর আবেদন জানিয়েছে।