এই সময়, আসানসোল: দশ বছরের এক কিশোরীকে যৌন হেনস্থায় অভিযুক্ত সিআইএসএফ (সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স) জওয়ানকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করাল পুলিশ। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে তাঁকে।
ঘটনাটি শনিবার দুপুরের। পশ্চিম বর্ধমান জেলার কুলটি থানার শীতলপুর লালবাজার সিআইএসএফ ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় দুই শিশু কাঁচা আম কুড়োতে গিয়েছিল। অভিযোগ, সেখানে কর্মরত জওয়ান রমাকান্ত বিশ্বকর্মা আম দেওয়ার নাম করে শিশুদের নিজের কোয়ার্টারে ডেকে নিয়ে যায়। এর পরে পাঁচ বছরের একটি শিশুকে বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখে ১০ বছরের নাবালিকাকে ঘরের ভেতরে নিয়ে গিয়ে অশালীন আচরণ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে ওই জওয়ান। নাবালিকাটি চিৎকার শুরু করলে ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে অভিযুক্ত জওয়ান নিজের স্কুটি নিয়ে এলাকা থেকে চম্পট দেয়।
ঘটনাটি জানাজানি হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। শনিবার রাতে প্রথমে শীতলপুর সিআইএসএফ ক্যাম্প ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখানো হয়। এর পরে নির্যাতিতার পরিবার ও স্থানীয় নেতা রতন মশীহের নেতৃত্বে শাকতোড়িয়া পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযুক্তের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে রবিবার দীর্ঘক্ষণ পথ অবরোধ করেন গ্রামবাসীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছন ফাঁড়ির ইনচার্জ বিনয় দাস। পুলিশের পক্ষ থেকে কড়া আইনি ব্যবস্থার আশ্বাস পাওয়ার পরে রাতে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
তদন্তে নেমে পুলিশ অভিযুক্ত জওয়ানকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত জওয়ানের বাড়ি উত্তরপ্রদেশের মান্ডা এলাকায়। সে শীতলপুর ইসিএল ক্যাম্পে কর্মরত ছিল। তার বিরুদ্ধে পকসো আইনের ৮ ও ১০ ধারা (শিশুকে গুরুতর যৌন হেনস্থা) এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৩৭/২ (অপহরণ) ও ৩৫১/২ (ভয় দেখানো বা হুমকি দেওয়া) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
সোমবার ধৃতকে আসানসোলের পকসো আদালতে হাজির করানো হলো তাকে জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। ৩০ এপ্রিল তাকে ফের আদালতে হাজিরা দিতে হবে। মঙ্গলবারই নির্যাতিতার গোপন জবানবন্দি নেওয়া হবে বলে আদালত সূত্রে খবর।