মমতাকে সমর্থন করেও কেন বাংলায় ভোট প্রচারে এল না সপা?
আজ তক | ২৮ এপ্রিল ২০২৬
তৃণমূলের হয়ে প্রচারে এবছর বাংলায় এসেছেন আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব এবং আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল। বাংলার ভোটে মমতার সমর্থনে সরব হয়েছেন INDIA জোটের আরও এক সদস্য সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদবও। স্পষ্ট ভাষায় তিনি সমর্থন জানিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসকে। তবে এবার তৃণমূলের হয়ে ভোটপ্রচারে দেখা যায়নি অখিলেশের দলের কাউকে। গতবার ভোটে মমতার হয়ে প্রচার করতে নেমেছিলেন সমাজবাদী পার্টির রাজ্যসভার সাংসদ তথা অমিতাভপত্নী জয়া বচ্চন। এবার দেখা যায়নি তাঁকেও। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, অখিলেশের পার্টির সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক। ২০২১ সালে তাই সমাজবাদী পার্টির প্রতিনিধি হয়ে বাংলার ‘ধন্যি মেয়ে’ জয়া বচ্চন এসেছিলেন কলকাতায়। তৃণমূলের সমর্থনে প্রচারের ময়দানে নেমেছিলেন তিনি। একাধিক রোড শো করতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। একুশের বঙ্গভোটে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলকে রাজনৈতিকভাবে সমর্থন করেছিল সমাজবাদী পার্টি। মমতাই ফের ক্ষমতায় আসবেন, এবারও বলছেন অখিলেশ যাদব। তাহলে কেন ২০২৬-এর ভোট ময়দানে দেখা গেল না জয়া বা অন্য কোনও সমাদবাদী নেতৃত্বকে? এই নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
সমাজবাদী পার্টির সহ-সভাপতি কিরণময় নন্দ bangla.aajtak,in-কে জানিয়েছেন, 'বাংলায় ভোট প্রচারে যাওয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত ছিলাম, কিন্তু ডাক পাইনি। বাংলার বিহারী ভোটারদের মধ্যে তৃণমূলের জন্য প্রচার করেছেন তেজস্বী। এরাজ্যে উত্তরপ্রদেশেরও বহু বাসিন্দা আছেন। আমরা এখানে তাঁদের কাছে তৃণমূলের হয়ে প্রচার করতে পারতাম।'
এদিকে রবিবার এক্স-এ অখিলেশ পোস্ট করেছিলেন, দ্বিতীয় দফার পরেই মমতা ফের ক্ষমতায় ফিরবেন। অখিলেশ তাঁর পোস্টে লিখেছিলেন, 'এক অকেলি লড় জায়েগি, জিতেগি অর বড় জায়েগি!' অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাই লড়ে জিতবেন এবং আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরবেন। তাঁর এই মন্তব্য স্পষ্ট করে দিচ্ছে, বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসের লড়াইকে তিনি শুধুই ভোটরাজনীতি হিসেবে দেখছেন না, বরং রাজ্যের পরিচয়, সংস্কৃতি ও ‘অস্মিতা’র লড়াই হিসেবেও গুরুত্ব দিচ্ছেন। অখিলেশ কার্যত নিশ্চিত করছেন, বাংলার ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে মমতাই প্রধান ভূমিকা পালন করবেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, অখিলেশ যাদবের এই প্রকাশ্য সমর্থন বিরোধী ঐক্যের রাজনীতিকে আরও এগিয়ে দিচ্ছে। জাতীয় স্তরে বিজেপি বিরোধী জোট নিয়ে যখন জোর আলোচনা চলছে, তখন উত্তরপ্রদেশের মতো বড় রাজ্যের এক প্রভাবশালী নেতার এই অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, অখিলেশ যাদবের মতো নেতারা যেভাবে আঞ্চলিক দলগুলির পাশে দাঁড়াচ্ছেন, তা বিরোধী শিবিরের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই আবহে তেজস্বী, কেজরি বাংলার ভোট প্রচারে অংশ নিলেও অখিলেশের দলের অনুপস্থিতি নজর কেড়েছে অনেকেরই। এদিকে আগামী বছর ২০২৭ সালে উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন। যেখানে ক্ষমতাসীন বিজেপির সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টি। এই ভোটে তৃণমূল কংগ্রেস কী ভূমিকা নেবে তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে দিয়েছে।