• ‘ডি কোম্পানি’র মাদক সাম্রাজ্যের ‘সম্রাট’, ভারতে ফেরানো হল দাউদ ঘনিষ্ঠ সেলিমকে
    প্রতিদিন | ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ফের ডি কোম্পানির পাঁজরে আঘাত ভারতের গোয়েন্দা বিভাগের। দাউদ ইব্রাহিমের ঘনিষ্ঠ তথা ডি কোম্পানির অন্যতম শীর্ষ গ্যাংস্টার সেলিম ডোলাকে প্রত্যার্পণ চুক্তির মাধ্যমে দেশে ফেরাল সরকার। আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের এই পান্ডাকে মঙ্গলবার তুরস্ক থেকে দিল্লিতে আনা হয়েছে। মাদক পাচার চক্রের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ বিরাট সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে।

    জানা যাচ্ছে, ভারতের গোয়েন্দা বিভাগ ও আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা বিভাগের যৌথ অভিযানে তুরস্কের ইস্তানবুলে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। মঙ্গলবার ভোরে বিশেষ বিমানে চাপিয়ে দিল্লিতে নিয়ে আসা হয় অভিযুক্তকে। জানা যাচ্ছে, প্রাথমিক জেরার পর অভিযুক্তকে মুম্বই পুলিশ বা নারকোটিস্ক বিভাগের হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিদেশের মাটিতে বসে ভারত-সহ একাধিক দেশে ডি কোম্পানির প্রায় ৫০০০ কোটি টাকার মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করত। সেলিমের গ্রেপ্তার দেশে মাদক পাচার চক্রের বিরুদ্ধে এক বিরাট ধাক্কা বলে দাবি করেছেন গোয়েন্দারা।

    সেলিমের গ্রেপ্তারির পর দেশের নারকোটিক্স বিভাগকে অভিনন্দন জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সোশাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, ‘মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। নারকোটিক্স বিভাগ আজ তুরস্ক থেকে কুখ্যাত মাদক পাচারকারী মহম্মদ সেলিম ডোলাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সফল হয়েছে। মোদি সরকারের মাদক বিরোধী অভিযানে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা মাদক চক্রগুলোকে নির্মমভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে। এরা যেখানেই লুকিয়ে থাকুক না কেন, মাদক সম্রাটদের জন্য কোনও স্থানই নিরাপদ নয়।’

    তদন্তকারীদের তরফে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত সেলিম মুম্বইয়ের বাইকুল্লা এলাকার বাসিন্দা। দাউদ যেখানে বড় হয়েছেন সেই এলাকায় অবাধ যাতায়াত ছিল সেলিমের। শুরুতে গুটখার ব্যবসা করলেও ধীরে ধীরে মাদক পাচার চক্রে হাত পাকায় সেলিম। প্রথমে ছিল এর গাঁজার ব্যবসা। ২০১২ সালে এই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছিল নারকোটিক্স বিভাগ। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর অন্যান্য বিপজ্জনক ড্রাগ পাচারে হাত পাকায় অভিযুক্ত। ২০১৮ সালে মুম্বইয়ে বিপুল পরিমাণ ফেন্টানিল-সহ ফের গ্রেপ্তার হয় সেলিম। এবার জামিনে ছাড়া পেয়ে পালিয়ে যায় বিদেশে। সংযুক্ত আরব আমিশাহী হয়ে তুরস্কে গিয়ে গা-ঢাকা দেয়। সেখান থেকেই যোগ দেয় দাউদের মাদক চক্রে। সেলিমের বিরুদ্ধে রেড কর্নার নোটিস জারি করেছিল ইন্টারপোল। এরপরই গ্রেপ্তার করে ভারতে ফেরানো হল মাদক চক্রের এই চাঁইকে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)