• রাজীব গান্ধীর খুনি এবার আইনজীবী! ৩১ বছর জেল খেটে এবার লড়বেন ‘অন্যায়ভাবে কারারুদ্ধ’দের জন্য
    প্রতিদিন | ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ২০২২ সালে মুক্তি পেয়েছিলেন তিনি। রাজীব গান্ধী হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অপরাধে আগের ৩১ বছর কেটেছে জেলের অন্দরে। সেই এ জি পেরারিবলন এবার শুরু করলেন নতুন জীবন। এখন তিনি আইনজীবী। ১৯৯১ সালের ২১ মে তামিলনাড়ুর শ্রীপেরেমবুদুরে এক জনসভায় আত্মঘাতী হামলায় প্রয়াত হন রাজীব। এমন ভয়ংকর মৃত্যুতে শিউরে ওঠে দেশ। এরপর শুরু হয় গ্রেপ্তারি। সেই সময়ই গ্রেপ্তার হয়েছিলেন পেরারিবলন। তখন তিনি ১৯ বছরের তরুণ।

    তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল রাজীব-হত্যায় ব্যবহৃত বিস্ফোরকের জন্য ৯ ভোল্টের ব্যাটারি সরবরাহ করার। সেই থেকে জেলেই ছিলেন তিনি। ২০২২ সালের ১৮ মে সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের ১৪২ নম্বর ধারার উল্লেখ করে মুক্তি দেয় পেরারিবলনকে। জেল থেকে বেরনোর পর বেঙ্গালুরুর ড. বি আর আম্বেদকর আইন কলেজে ভর্তি হন। এরপর শুরু হয় পড়াশোনা। ২০২৫ সালে অল-ইন্ডিয়া বার এগজামিনেশনে পাশ করেন তিনি।

    কেন আইন নিয়ে পড়াশোনা করলেন? পেরারিবলন জানাচ্ছেন, তিনি দীর্ঘ সময় ধরে যে আইনি লড়াই চালিয়েছিলেন সেই দিকে তাকিয়েই এবার ‘অন্যায়ভাবে কারারুদ্ধ’দের জন্য লড়াই করবেন তিনি। তাই এবার আইনজীবীর কেরিয়ারে ফৌজদারি বিচার ও অপরাধীদের দণ্ড-পরবর্তী সংস্কারের দিকেই ফোকাস করতে চান। ৫৪ বছরের পেরারিবলন প্র্যাকটিস করবেন মাদ্রাজ হাই কোর্টে। সোমবার তাঁর গায়ে ওঠে কালো পোশাক। এদিনই তিনি যুক্ত হন বার অ্যাসোসিয়েশনে।

    ১৯৯১ সালে চেন্নাইয়ের শ্রীপেরেম্বুদুরে মানববোমার হামলায় মৃত্যু হয় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর। সেই মামলায় দোষী সাব্যস্ত ৭ জনকে ২০২২ সালে মুক্তি দেয় সুপ্রিম কোর্ট। রাজীব পত্নী সোনিয়া, পুত্র রাহুল ও কন্যা প্রিয়াঙ্কা আগেই আদালতকে জানিয়েছিলেন, দোষীদের মুক্তির পক্ষে তাঁরা। যদিও কেন্দ্র অপরাধীদের মুক্তি দিতে ইচ্ছুক ছিল না। কিন্তু শেষপর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মুক্ত হন দোষীরা।
  • Link to this news (প্রতিদিন)