• মুসলিমদের ভোটে জয়ী হিন্দু মহিলা, সাম্প্রদায়িক বিভেদ ভুলে নতুন ইতিহাস গড়ল গোধরা
    এই সময় | ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • গোধরা (Godhra) মানেই পুড়ে যাওয়া ট্রেন। করসেবকদের ভয়াবহ হত্যালীলা। আর সাম্প্রদায়িক হিংসার নগ্ন ছবি। তবে গত ২৪ বছরে একটু একটু করে পাল্টেছে গুজরাটের এই শহর। তারই প্রমাণ দিলেন গোধরার সাধারণ মানুষ। প্রায় শত ভাগ মুললিম অধ্যুষিত গোধরার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে জিতলেন হিন্দু মহিলা অপেক্ষাবেন সোনি (Apekshaben Naineshbhai Soni)। মঙ্গলবার পুরভোটের ফলপ্রকাশের সঙ্গেই গুজরাটের রাজনীতিতে লেখা হলো নতুন ইতিহাসও।

    গত ২৬ এপ্রিল গুজরাটের ১৫টি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনে ভোট হয়। এ দিন ফলপ্রকাশের পরে দেখা যায়, সব ক’টিতেই জিতেছে বিজেপি। আমেদাবাদ, রাজকোট, ভদোদরা থেকে শুরু করে সুরেন্দ্রনগর, জামনগর, পোরবন্দর — সর্বত্র গেরুয়া ঝড়। তবে তাক লাগিয়ে দিয়েছে গোধরা পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড। সেখানে নির্দল প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন অপেক্ষাবেন। বিপুল ভোটে জিতে কাউন্সিলার হয়েছেন তিনি।

    অপেক্ষাবেন ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার নন। তবে এই ওয়ার্ড থেকেই ভোটে লড়েছিলেন তিনি। পুরো এলাকাই মুসলিম অধ্যুষিত। তাই তিনি দাঁড়ানোর পরে অনেকেই ভেবেছিলেন, আর যাই হোক, অপেক্ষাবেন জিততে পারবেন না। কিন্তু সব হিসেবনিকেশ উল্টে দিয়ে বিপুল ভোটে জিতেছেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ধর্ম বা জাতি নয়, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটাররা যোগ্য প্রার্থীকে বেছে নিয়েছেন।

    গোধরার এই ফলকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক ঐক্যের বিরল উদাহরণ হিসেবে দেখছেন অনেকে। গুজরাটের রাজনৈতিক ইতিহাসেও এটা মাইলফলক। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ বলছেন, ‘এই গোধরা মডেল ভবিষ্যতে গুজরাটের গ্রাম এবং মফঃস্বলের ভোটে বড় পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে।’

    উল্লেখ্য, ১৫টি পুরনিগমের পাশাপাশি ৮৪টি পুরসভা (মিউনিসিপ্যালিটি), ৩৪টি জেলা পঞ্চায়েত এবং ২৬০টি তালুকা (ব্লক) পঞ্চায়েতেও ভোট ছিল গত রবিবার। অধিকাংশ এলাকাতেই বিজেপি জিতেছে। গ্রামের দিকে কংগ্রেস এবং আপ খাতা খুলেছে ঠিকই, কিন্তু তা ওই মুখরক্ষার মতোই। পুরসভাগুলিতে দাঁত ফোটাতে পারেনি তারা।

  • Link to this news (এই সময়)