• জীবিত রোগীকেও বলা হচ্ছে ‘ব্রেন ডেড’? নেপথ্যে অঙ্গ পাচার? AIIMS-কে বড় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
    এই সময় | ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ডাক্তার ঘোষণা করে দিলেন রোগীর ‘ব্রেন ডেথ’ হয়েছে। অর্থাৎ, মস্তিষ্ক কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে, মৃত্যু ঘটেছে মস্তিষ্কের। এর পরে তাঁর পরিবারবর্গকে জানানো হলো, ওই রোগীর শরীরের কোনও বিশেষ অঙ্গ দান করা হলে, অন্য এক রোগীর শরীরে তা প্রতিস্থাপন করা যাবে। সবই হয়তো হয়ে গেল, কিন্তু যদি সত্যি সত্যি ওই রোগীর মস্তিষ্কের মৃত্যু না ঘটে থাকে? প্রতিস্থাপনযোগ্য অঙ্গলাভের তাড়নায় চিকিৎসক তড়িঘড়ি ওই রোগীকে ‘ব্রেন ডেড’ বলে ঘোষণা করে দিলেন না তো?

    ঠিক এই রকমই শিউরে ওঠা এক অভিযোগ পৌঁছেছে সুপ্রিম কোর্টের দরজায়। আর অঙ্গ পাচারের এমন ভয়াবহ আশঙ্কা রুখতেই ‘ব্রেন ডেথ’ ঘোষণার নিয়মে বড়সড় বদল আনতে চলেছে শীর্ষ আদালত। এই বিষয়ে মামলা করেছেন ডাঃ এস গণপতি নামে কেরালার এক চিকিৎসক তথা সমাজকর্মী। ২০১৭ সালের ২৮ জুন কেরালা হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতে আবেদন করেছিলেন তিনি।

    তাঁর অভিযোগ, অঙ্গ প্রতিস্থাপনের সুবিধার্থে অনেক সময়ে চিকিৎসকরা তড়িঘড়ি রোগীদের ‘ব্রেন ডেথ’ ঘোষণা করেন এবং রোগীর পরিবারকে অঙ্গদানে প্ররোচিত করেন। শুধু তাই নয়, বর্তমানে ব্রেন ডেথ নিশ্চিত করার জন্য যে ‘অ্যাপনিয়া টেস্ট’ (Apnea test) ব্যবহার করা হয়, সেই পরীক্ষা সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত বা ফুলপ্রুফ নয় বলে দাবি করেছেন এই ডাক্তারবাবু। কারণ এটি চিকিৎসকের ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণের উপরে নির্ভরশীল। নিয়ম অনুযায়ী অ্যাপনিয়া টেস্টের ভিডিয়োগ্রাফি করার কথা থাকলেও, বহু ক্ষেত্রেই চিকিৎসকরা তা মানেন না বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

    অ্যাপনিয়া টেস্টের বদলে ব্রেন ডেথ ঘোষণার জন্য ‘ব্রেন অ্যাঞ্জিওগ্রাম’ বা ‘ইলেক্ট্রোএনসেফালোগ্রাম’ (EEG)-এর মতো আধুনিক পরীক্ষা পদ্ধতির সুপারিশ করেছেন ডাঃ এস গণপতি। তিনি জানিয়েছেন, ব্রেন ডেথ হলে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এই পরীক্ষাগুলিতে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল করছে কিনা ধরা পড়ে। তাই এই পরীক্ষাগুলি ব্যবহার করা উচিত বলে জানিয়েছেন তিনি।

    মঙ্গলবার এই মামলার শুনানি চলাকালীন বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ জানিয়েছে, অঙ্গদান প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে এই বিকল্প পরীক্ষাগুলির কার্যকারিতা এবং সুরক্ষা যাচাই করা অত্যন্ত প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যে দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস বা AIIMS-এর নিউরোলজি বিভাগের প্রধানকে একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠনের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

    কেন্দ্রীয় সরকারের কৌঁসুলি জানিয়েছিলেন, অঞ্গ পাচার রুখতে ইতিমধ্যেই মানব অঙ্গ প্রতিস্থাপন আইন, ১৯৯৪ রয়েছে। তবে বিচারপতি মেহতা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এখানে মূল প্রশ্নটি ‘ব্রেন ডেথ’ ঘোষণার সঠিক পদ্ধতি নিয়ে।

  • Link to this news (এই সময়)