অনেকদিন ধরেই প্রধানমন্ত্রীর 'ড্রিম প্রজেক্ট' ছিল এই গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে। কাজও চলছিল পুরোদমে। কবে থেকে এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে পারবেন? সেই নিয়ে আকাঙ্খা জেগেছিল উত্তরপ্রেদশের মানুষের মধ্যে। এ বার সেই আশাই পূর্ণ হতে চলেছে।
বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন করলেন। অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। এই রাস্তা ৫৯৪ কিলোমিটার দীর্ঘ। প্রায় ৩৬ হাজার ২৩০ টাকা ব্যয় করে নির্মাণ করা হয়েছে এই রাস্তা। যা উত্তরপ্রদেশের দীর্ঘতম রাস্তা হতে চলেছে।
৫৯৪ কিমি দীর্ঘ এই রাস্তায় মোট ৬ টি লেন রয়েছে। যা ভবিষ্যতে বেড়ে ৮ টি লেন করা হবে। এটি উত্তরপ্রদেশের মিরাট থেকে প্রয়াগরাজ পর্যন্ত পথকে সংযুক্ত করবে। এই রাস্তার মধ্যে প্রায় ১২ টি জেলা পড়ে। এটি যাত্রার সময়কে অনেকটাই কম করবে।
ফলে সমগ্র উত্তরপ্রদেশের যোগাযোগের ক্ষেত্রে এটি নতুন দিশা দেখাতে চলেছে। এটি শুধু রাস্তা নয়, একটি ইকোনমিক করিডর। এই রাস্তাকে শিল্প, লজিস্টিকস, কৃষি, রিয়েল এস্টেট ও পর্যটনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এখানে ১২টি Integrated Manufacturing & Logistics Clusters (IMLCs) তৈরি করার পরিকল্পনা চলছে। শুধু তাই নয়, জানা যাচ্ছে এখানে প্রায় ৪৭ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ করা হবে, যা শিল্প ও বাণিজ্যকে আরও বৃদ্ধি করবে। পাশাপাশি, সাজাহানপুরে ৩.৫ কিমি এয়ারস্ট্রিপ তৈরি করা হয়েছে, যেখানে জরুরি প্রয়োজনে যুদ্ধবিমানও অবতরণ করতে পারবে।
এই রাস্তাকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যম হিসেবে তৈরি করার চেষ্টা চলছে। যেহেতু এই রাস্তায় যাতায়াতের ফলে সময় অনেকটাই কমবে, তাই পণ্য পরিবহণ খরচও কমবে। কৃষিজাত পণ্য দ্রুত বাজারে পৌঁছবে এবং রিয়েল এস্টেট ব্যবসাও বাড়বে। এই রাস্তার আশেপাশে জমির মূল্য ৩০-৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ।
উত্তরপ্রদেশ যেহেতু ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক পর্যটনের কেন্দ্র , তাই রোডের ফলে পর্যটন শিল্পও যথেষ্ট উন্নত হবে। গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে শুধু একটি রাস্তা নয়, এটি উত্তর প্রদেশের শিল্প, ব্যবসা, কৃষি ও নগরোন্নয়নের নতুন অর্থনৈতিক করিডর, যা ভবিষ্যতে রাজ্যের উন্নয়নের অন্যতম বড় ভিত্তি হতে চলেছে।