• ‘রাজনৈতিক প্রাণহানি ঘটেনি’, হিংসামুক্ত বিধানসভা নির্বাচনের দাবি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের
    এই সময় | ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ শেষের পরে সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের ছবি তুলে ধরলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল। তাঁর কথায়, এ বার নির্বাচন প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে এবং ভোটের দিনে কোনও রাজনৈতিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

    সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, দ্বিতীয় দফায় মোট ভোট পড়েছে ৯২.৪৭ শতাংশ। রাজ্য জুড়ে ছিল প্রায় ৪১ হাজার বুথ। লাইনে দাঁড়ানো সব ভোটারকে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং কন্ট্রোল রুম থেকে পুরো প্রক্রিয়া নজরে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

    আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জানান, এ দিনের ভোট মোটের উপর শান্তিপূর্ণ ছিল। কলকাতায় ‘ঐতিহাসিক’ ভোট হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘অনেকদিনের অভিজ্ঞ পোলিং অফিসাররাও এত বেশি ভোটের হার আগে দেখেননি।’ ভোটকে উৎসবের মতো করে তুলতে পারাই প্রশাসনের সাফল্য বলে তিনি মনে করেন এবং এই জন্য ভোটারদের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমকেও ধন্যবাদ জানান।

    তবে কিছু অভিযোগের কথাও উঠে এসেছে দ্বিতীয় দফার ভোটে। মোট ৬৮৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মনোজ আগরওয়াল। যার মধ্যে স্পেসিফিক কেসে ১৯ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। জেলাভিত্তিক হিসেবে পূর্ব বর্ধমানে ৭৪ জন এবং ব্যারাকপুরে ৭৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    ইভিএম নিয়ে অভিযোগের সংখ্যাও কম নয়। মোট ৭৭টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে মগারহাটে ১৩টি, ডায়মন্ড হারবারে ২৯টি এবং বজবজে ৩টি অভিযোগের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

    কিছু জায়গায় ভোট এজেন্টদের বুথ থেকে বের করে দেওয়া বা বাধা দেওয়ার অভিযোগও এসেছে। প্রথম দফায় এই ধরনের অভিযোগ না থাকলেও দ্বিতীয় দফায় তা সামনে এসেছে বলে স্বীকার করেন তিনি। তবে এই ধরনের ত্রুটি থেকে শিক্ষা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান।

    পুনর্নির্বাচনের সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে বৈঠকে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান এবং ব্যারাকপুরের কিছু এলাকায় পুনরায় ভোটগ্রহণ হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হিসেবে তিনি বলেন, ‘অনেক বছর পর ভোটে কোনও রাজনৈতিক মৃত্যু হয়নি।’ ২০১৬ সালে ৭ জন এবং ২০২১ সালে ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, এ বছর সেই ধরনের কোনও ঘটনা ঘটেনি। এতে রাজ্যের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে এবং এর জন্য সব রাজনৈতিক দলকেই কৃতিত্ব দেন তিনি।

    ভোটের আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় করা পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন তিনি। ভোটের আগেই মোট ১৩৮৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

    ভবানীপুরে অশান্তির ঘটনায় কেন্দ্রীয় বাহিনী যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এ বারের ওয়েবক্যাম ব্যবস্থাও খুব ভালো কাজ করেছে।

    শেষে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কোনও রকেট সায়েন্স নয়। আমাদের যে দায়িত্ব ছিল, আমরা তা পালন করেছি। নির্বিঘ্নে ভোট সম্পন্ন করতে পেরেছি, সেটাই আমাদের সাফল্য।’ একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ২০২৬ সালের এই নির্বাচন প্রমাণ করে দিয়েছে যে পশ্চিমবঙ্গে এক দফাতেও নির্বাচন সম্ভব।  

  • Link to this news (এই সময়)