কালীগঞ্জ আসনে উপনির্বাচনে জিতেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। ফল ঘোষণার দিনেই তৃণমূল কংগ্রেসের একটি মিছিল থেকে ছোড়া বোমার আঘাতে মৃত্যু হয়েছিল ১০ বছরের নাবালিকা তমান্না খাতুন। বুকের মধ্যে ক্ষোভের আগুন রয়েছে মায়ের। সেই আগুনকে হাতিয়ার করেই এ বছর কালীগঞ্জ আসন থেকে সিপিএমের প্রতীকে লড়েছেন সাবিনা ইয়াসমিন। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে বড় কোনও অশান্তির ঘটনা ঘটেনি। এই কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ৯৩.১৭ শতাংশ। নির্ভিঘ্নে ভোটের পরে তমান্নার মা বললেন, ‘মেয়ের বিচারের জন্য লড়াই জারি থাকবে।’
গত লোকসভা নির্বাচনে মেয়ের হাত ধরে মোলান্দি দক্ষিণপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট দিতে এসেছিলেন সাবিনা। কর্তব্য সীমাবদ্ধ ছিল শুধু ভোটার হিসেবে। তবে এ বার তিনি প্রার্থী। সম্পূর্ণ ভিন্ন ভূমিকা, ভিন্ন পরিমণ্ডল। শুধু সঙ্গে তাঁর মেয়ে নেই। এ বার নিজের বুথে ভোট দিয়ে কালীগঞ্জ কেন্দ্রের বিভিন্ন বুথে পরিদর্শনে যান। কর্মী, এজেন্টদের সঙ্গে দেখা করেন সাবিনা। রাজনীতিতে নবাগতা সাবিনা ছিলেন ঠান্ডা মেজাজেই।
প্রচার পর্বে তৃণমূলের কাছে একাধিকবার বাধা পেয়েছেন। তবুও লড়াইয়ের ময়দান থেকে নিজে সরে যাননি। আজ বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় শুধু মেয়ের কথাই মনে হয়েছে বলেছে জানানা সাবিনা।
কালীগঞ্জের সিপিএম প্রার্থী বলেন, ‘প্রথমে মনে হয়েছিল, ওই দুষ্কৃতীগুলোকে শেষ করে দিই। পরে তমান্নার আব্বু এবং গোটা দল আমাকে প্রতিনিয়ত বোঝায়। এ ভাবে নয়, কঠিন থেকে কঠিনতম শাস্তি চাই ওদের। তখনই ঠিক করি, আইনের পথে ওদের শাস্তি দিতে হবে সে জন্য হাইকোর্ট পর্যন্ত ছুটতে হয়েছিল। যে লড়াই মেয়ের বিচারের জন্য শুরু করেছি, তার শেষ দেখেই ছাড়ব।’
এই লড়াইয়ের শক্তি কোথা থেকে পাচ্ছেন? সাবিনা বলেন, ‘আল্লার উপরে বিশ্বাস। আর মেয়ে তমান্না সবসময় আমার সঙ্গে রয়েছে। তমান্নার স্মৃতি আঁকড়ে ধরে এতদিন পর্যন্ত যেভাবে বেঁচে আছি। ঠিক সেভাবেই এর শেষটা দেখেই ছাড়ব।’
উল্লেখ্য, কালীগঞ্জ আসন বরাবরই শক্তঘাঁটি তৃণমূল কংগ্রেসের। এই কেন্দ্রের দীর্ঘদিনের বিধায়ক নাসিরুদ্দিন আহমেদের মৃত্যুর পরে উপনির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন তাঁর কন্যা আলিফ আহমেদ। ২৫-এর উপনির্বাচনে ৫০ হাজারের কাছাকাছি ব্যবধানে জিতেছিলেন তিনি।
রিপোর্টিং: নিলয় ভট্টাচার্য