বুথের পাশে বসে রয়েছেন মহম্মদ শহিদুল্লাহ শেখ। ভোটাররা হাসি মুখে ঢুকছেন। ভোট দিচ্ছেন। উদাস চোখে সেই দিকে তাকিয়ে রয়েছেন তিনি। আচমকা হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন, ‘জীবনে প্রথম বার ভোট দিতে পারলাম না।’ তিনি এক নন, প্রায় ২০ জন ভোটার বুথের পাশে বসেছিলেন। একেবারে মৌন। রাগ, দুঃখ আর ক্ষোভ - সব মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোট (West Bengal Assembly Election 2026) শান্তিপূর্ণ। পূর্ব বর্ধমানের (East Bardhaman) আউশগ্রাম বিধানসভাতেও নির্বিঘ্নে ভোট দিয়েছেন সবাই। কিন্তু বুধবার পুবার গ্রামের ২৪ নম্বর বুথের সামনে শহিদুল্লার কান্নাটা প্রতীকী হয়েই থাকল। তাঁকে ওই ভাবে কাঁদতে দেখে কয়েক জন থমকে দাঁড়ালন, ‘মনে হচ্ছে SIR-এ নাম কাটা গিয়েছে।’ নিজেদের মধ্যে বলাবলি করতে করতে আবার চলেও গেলেন তাঁরা। শহিদুল্লাহ থম মেরে বসে রইলেন। তাঁর সঙ্গীরাও।
ভোটার তালিকায় নাম নেই শহিদুল্লাহর। SIR-এ তাঁর নাম কাটা গিয়েছে। ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন। এখনও মীমাংসা হয়নি। ৭৬ বছর বয়স তাঁর। ছেলে, বৌমা, নাতি-নাতনি নিয়ে ভরা সংসার। একটা সময় চাষবাস করতেন। ফসল ফলাতেন। এখন শরীর আর দেয় না। বাড়িতেই থাকেন। অবসর উপভোগ করেন। সুখেই কাটছে জীবন। কিন্তু এ দিন ভোট দিতে না পারাটা তাঁর বুকে যেন শেল হয়ে বিঁধেছে।
গত ৫০ বছর ধরে ভোট দিচ্ছেন শহিদুল্লাহ। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে ভোট দিয়েছিলেন। ২০২১-এর বিধানসভাতেও। এ বারেই প্রথম ছেদ পড়ল। হাতের ভোটার কার্ডটা নাড়তে নাড়তে বললেন, ‘নিজেকে বড় অসহায় মনে হচ্ছে।’
শহীদুল্লাহর মতো প্রায় ২০ জন ভোটার বুথের বাইরে বসেছিলেন। তাঁদেরও নাম কাটা গিয়েছে। ভোটের সকালে তাঁরা প্রতীকী প্রতিবাদে বসেছেন। চোখে-মুখে যন্ত্রণার ছাপ স্পষ্ট। একসঙ্গে বলে উঠলেন, ‘এ ভাবে নাগরিক অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না।’ উল্লেখ্য, চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় পুবার গ্রামে মোট ৬৮৭ জনের নাম বাদ গিয়েছে। বেশির ভাগই ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন বলে জানা গিয়েছে।