• এগজ়িট পোলে ভরসা করেন? তবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই বাংলায়
    এই সময় | ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • পশ্চিমবঙ্গের হাই-ভোল্টেজ ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হতেই সামনে আসতে শুরু করেছে বিভিন্ন সংস্থার বুথ ফেরত সমীক্ষা বা এগজ়িট পোল। দুই দফায় অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC), প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সাক্ষী থেকেছে রাজ্যবাসী। ‘মহাশূন্য’ থেকে খাতা খোলার স্বপ্নে বিভোর বাম এবং কংগ্রেসও।

    ২৯৪ আসনের বিধানসভায় ম্যাজিক ফিগার হলো ১৪৮। ৪ তারিখ কারা পৌঁছবে সেই সংখ্যায়? ভোট পড়েছে রেকর্ড সংখ্যক। তার উপরে ভোটের ঠিক আগেই SIR হয়ে মৃত-ডুপ্লিকেট এবং অন্যত্র চলে যাওয়া ভোটারদের নামের পাশাপাশি বহু সংখ্যক বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়ার অভিযোগও রয়েছে। তাই এই বার নির্বাচনের ফলের আগাম আভাস দিতে সাহস করছেন না কেউই। তবে কিছু আভাস তুলে ধরা হচ্ছে বুথ ফেরত সমীক্ষাগুলিতে। বুথ ফেরত সমীক্ষার অনেক সময়ে পুরো ভুলও প্রমাণিত হয়েছে। এই সমীক্ষার থেকে একটা আভাস পাওয়া যায় মাত্র। কী বলছে সমীক্ষার ফল?

    পি-মার্ক (P-MARQ)-এর সমীক্ষা অনুযায়ী বাংলায় এ বার ক্ষমতার হাতবদল হতে চলেছে। তাদের সমীক্ষা অনুযায়ী BJP পেতে পারে ১৫০ থেকে ১৭৫টি আসন। আর TMC আটকে যেতে পারে ১১৮ থেকে ১৩৮টি আসনে। বাম-কংগ্রেস এ বারও শূন্যই থাকবে। তবে অন্য দলগুলির ঝুলিতে যেতে পারে ২ থেকে ৬টি আসন।

    ম্যাট্রিজ় (Matrize)-এর বুথ ফেরত সমীক্ষার ফল বলছে BJP পেতে পারে ১৪৬ থেকে ১৬১ আসন। আর TMC-র ঝুলিতে যাবে ১২৫ থেকে ১৪০ আসন। তারাও বলছে বাম-কংগ্রেস শূন্যেই থাকবে আর অন্যান্যরা পেতে পারে ৬ থেকে ১০টি আসন।

    পোল ডায়েরি (Poll Dairy)-র এগজ়িট পোলেও এগিয়ে রাখা হয়েছে BJP-কে। তারা বলছে, BJP পেতে পারে ১৪২ থেকে ১৭১টি আসন। TMC পেতে পারে ৯৯ থেকে ১২৭টি আসন। আর অন্য দলগুলি পেতে পারে ৫ থেকে ৯টি আসন।

    চাণক্য স্ট্র্যাটেজিস (Chanakya Strategies)-এর পূর্বাভাস, BJP পেতে পারে ১৫০ থেকে ১৬০টি আসন এবং তৃণমূল পেতে পারে ১৩০ থেকে ১৪০টি আসন।

    একমাত্র পিপলস পালস-এর সমীক্ষায় TMC-র প্রত্যাবর্তনের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তাদের রিপোর্ট বলছে, তৃণমূল কংগ্রেস পেতে পারে ১৭৭ থেকে ১৮৭টি আসন। আর BJP আটকে যাবে ৯৫ থেকে ১১০। আর কংগ্রেস পেতে পারে ১ থেকে ৩টি আসন। আর বামেরা পেতে পারে ১টি আসন।

    অর্থাৎ, একমাত্র পিপলস পালস ছাড়া প্রতিটি সমীক্ষক সংস্থার রিপোর্টেই এ বারে বাংলায় জয়ের বিষয়ে BJP-কে এগিয়ে রাখা হয়েছে, ‘পাল্টানো’র আভাস দেওয়া হয়েছে। ২০২১ সালের নির্বাচনে ৭৭টি আসন পাওয়া BJP, এ বার এক লাফে আসন সংখ্যা অনেকটা বাড়িয়ে ক্ষমতায় আসছে। ব্যাকফুটে তৃণমূল কংগ্রেস। শুধু তাই নয় বুথ ফেরত সমীক্ষাগুলিতে আরও আভাস দেওয়া হয়েছে, এ বারের নির্বাচনেও বিশেষ দাগ কাটতে পারেনি বাম এবং কংগ্রেস।

    তবে বুথ ফেরত সমীক্ষা বা এগজ়িট পোল চূড়ান্ত ফলাফল নয়, এটি মূলত ভোটারদের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি একটি পূর্বাভাস মাত্র। এর নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পরিসংখ্যানবিদদের অনেকেই বলেন এর কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। একাংশের মতে এর কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। অতীতে বহুবার এগজ়িট পোলের হিসেব বাস্তবের সঙ্গে মেলেনি।

    ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও ‘জন কি বাত’, ‘পিপলস পালস’-এর মতো সংস্থাগুলি BJP-র জয়ের আভাস দিয়েছিল। সি-ভোটার, চাণক্য, পি মার্কের মতো সংস্থাগুলি বলেছিল হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। বাস্তবে সকলকে ভুল প্রমাণ করে ২১৩টি আসনে জিতে ক্ষমতায় ফিরেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

    ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রেও মুখ থুবড়ে পড়েছিল অধিকাংশ সমীক্ষা সংস্থা। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র যেমন এ দিন ভোট শেষ হওয়ার পরেই বলেছেন, ‘এগজ়িট পোলগুলি দেখার আগে মনে রাখবেন— সমস্ত এক্সিট পোলই NDA ৩৫০-এর বেশি আসন পাবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল। চাণক্য ৪০০, ইন্ডিয়া টুডে-অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া ৩৬১-৪০১, এবিপি-সি ভোটার ৩৫৩-৩৮৩। কিন্তু বাস্তবে বিজেপি পেয়েছে ২৪০টি আসন— যা সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে অনেকটাই কম। ঠিক একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে ৪ঠা মে।’

    অন্যদিকে ভোট শেষ হওয়ার পরে সাংবাদিক সম্মেলন করেন BJP-র রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য। তাঁকে বুথ ফেরত সমীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন করা হলেও তিনি কার্যত বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছেন। তাঁর সংক্ষিপ্ত জবাব, ‘মানুষ জিতবে’।

    কাজেই নবান্ন কার দখলে যাবে, কে বসবে মসনদে, তা জানতে ৪ মে পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে। সেদিন ইভিএম খুললেই স্পষ্ট হবে আসল চিত্র।

  • Link to this news (এই সময়)