শুক্রবার ক্যালেন্ডারের পাতায় ১ মে। শ্রমিকদের দিন। শ্রমিকদের অধিকার আর লড়াই উদযাপনের জন্য প্রস্তুত গোটা বিশ্ব। কিন্তু রাজধানী দিল্লি সংলগ্ন নয়ডায় প্রস্তুতিটা ঠিক উল্টো। মে দিবসে বড় মাপের অশান্তির আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার থেকেই কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা শহর। উত্তরপ্রদেশের ‘বুলডোজার-খ্যাত’ প্রশাসনে এ বার শ্রমিকদের জমায়েত রুখতে চলছে প্রায় যুদ্ধের প্রস্তুতি।
শ্রমিক সংগঠনগুলির আন্দোলন ও সম্ভাব্য জমায়েত রুখতে গৌতমবুদ্ধ নগর জেলাজুড়ে ‘ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা-২০২৩’-এর ১৬৩ ধারার (আগে যা ১৪৪ ধারা হিসেবে পরিচিত ছিল) আওতায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
অর্থাৎ, মে দিবসে যদি ৫ জন শ্রমিক একসঙ্গে দাঁড়িয়ে একটু চা খাওয়ার কথাও ভাবেন, তাতেও থাকবে আইনি বাধা। গ্রেপ্তার হয়ে যেতে পারেন! আগামী ৮ মে পর্যন্ত এই ‘নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা’ ব্যবস্থা বলবৎ থাকবে বলে জানিয়েছে গৌতমবুদ্ধ নগর পুলিশ কমিশনারেট।
প্রশাসন সূত্রে খবর, নয়ডার শিল্পাঞ্চল এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলিতে শান্তি বজায় রাখতে তৈরি হয়েছে বিশেষ ‘সুরক্ষা চক্রব্যূহ’। পুরো জেলাকে ১১টি জ়োন এবং ৪৯টি সেক্টরে ভাগ করে চালানো হচ্ছে ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে নজরদারি।
শ্রমিকদের গতিবিধির উপরে আকাশ থেকে কড়া নজর রাখবে ড্রোন ক্যামেরাও। প্রায় ৫০টি এলাকাকে ‘স্পর্শকাতর’ হিসেবে চিহ্নিত করে চলছে হাই-টেক নজরদারি।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নামানো হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। মোতায়েন করা হয়েছে ৬ জন SP, ১৪ জন ASP এবং ৩০ জন DSP পদমর্যাদার আধিকারিককে। এ ছাড়াও ১৮০০ জন অতিরিক্ত পুলিশ কর্মী এবং ১০ কোম্পানি PAC (দাঙ্গা-হাঙ্গামা ঠেকানোর জন্য উত্তরপ্রদেশ পুলিশের বিশেষ বাহিনী) মোতায়েন করা হয়েছে।
‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের এই বিপুল পুলিশি আয়োজন দেখে রসিকদের মন্তব্য— যেন হাল্লা চলেছে যুদ্ধে!
গত ১৩-১৪ এপ্রিল বেতন বৃদ্ধির দাবিতে নয়ডায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ কিছুটা ‘বেসামাল’ হয়ে গিয়েছিল। ছড়িয়ে পড়েছিল হিংসা। গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষের মতো ঘটনা ঘটে।
বিক্ষোভের জেরে উত্তরপ্রদেশ সরকার তাদের ন্যূনতম মজুরি ২০-২১ শতাংশ বাড়িয়ে দিলেও বিক্ষোভ থামেনি। সেক্টর ৭০, ৮০, ১২১ ও ফেজ-২-এ শ্রমিকরা রাস্তা অবরোধ করেন। সেক্টর ১২১-এ গৃহকর্মী মহিলারাও প্রতিবাদ করেন।
টিয়ার গ্যাস ছুড়ে ও লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছিল পুলিশ। দু’দিনে প্রায় ৩০০ শ্রমিককে গ্রেপ্তার করা হয়।
শ্রমিক বিক্ষোভের সেই স্মৃতিই আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসের আগে ঘুম কেড়েছে যোগী-প্রশাসনের। তাই যেনতেন প্রকারে তাঁদের ‘দমন’ করার পথে হাঁটছে প্রশাসন। কন্ট্রোল রুম থেকে গেজ়েটেড অফিসাররা প্রতি মুহূর্তের আপডেট নিচ্ছেন। শহরের অলিতে-গলিতে মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে।
শ্রমিক দিবসে শ্রমিকদের জমায়েতই নিষিদ্ধ করা এই ‘নিরাপত্তা-মডেল’ নিয়ে ইতিমধ্যেই সোশাল মিডিয়ায় হাসাহাসি শুরু হয়েছে।