• রাজ্যে গণনাকেন্দ্র কমে ৭৭, আই কার্ডে QR কোড
    এই সময় | ০১ মে ২০২৬
  • পশ্চিমবঙ্গে রেকর্ড ভোটদানের পরে এ বার গণনার কাজেও নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে মরিয়া নির্বাচন কমিশন। ভোট শেষের পরে স্ট্রংরুমগুলিতে যাতে নিরাপদে বা যথাযথ সুরক্ষায় ইভিএম সংরক্ষিত রাখা যায় সে কারণেই জেলা সদরের বাইরে যতটা সম্ভব কম গণনাকেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গের ভূ প্রাকৃতিক বৈচিত্র এবং বিধানসভা কেন্দ্র থেকে গণনা কেন্দ্রের দূরত্বের কথা বিচার করে ২৩ জেলার জেলা সদরগুলিতে ৩৫টি গণনাকেন্দ্র এবং মহকুমা স্তরে ৪২টি গণনা কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। অর্থাৎ রাজ্যে মোট গণনা কেন্দ্রের সংখ্যা ৭৭। ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে ১০৮টি গণনা কেন্দ্র ছিল। কমিশনের সুপারিশ মেনে এ বারের নির্বাচনে প্রাথমিকভাবে ৮৭টি গণনাকেন্দ্রের প্রস্তাব দেয় সিইও দপ্তর। কিন্তু নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার নিরিখে কমিশনের প্রস্তাব মেনেই শেষ পর্যন্ত গত সপ্তাহে একুশের বিধানসভা নির্বাচনের থেকে ৩১টি কমিয়ে ২০২৬-এর নির্বাচনে গণনা কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে ৭৭টি।

    সবচেয়ে বেশি গণনাকেন্দ্র রয়েছে ৩৩ বিধানসভা কেন্দ্রের উত্তর ২৪ পরগনায়- ৭টি। অন্যদিকে আলিপুরদুয়ারে পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য একটি গণনা কেন্দ্র আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয়, ঝাড়গ্রামে একটি গণনা কেন্দ্র ঝাড়গ্রাম রাজ কলেজ, কালিম্পংয়েও একটি গণনাকেন্দ্র স্কটিশ ইউনিভার্সিটি মিশন এবং কলকাতা উত্তরে সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য গণনাকেন্দ্র শুধুমাত্র নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম। ২টি করে গণনা কেন্দ্র রয়েছে অর্থাৎ একটি জেলা সদরে এবং একটি মহকুমাস্তরে এরকম জেলাগুলি হলো উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি, মালদা এবং পশ্চিম বর্ধমান। ৩টি করে গণনাকেন্দ্র রয়েছে এমন জেলা হলো বাঁকুড়া, বীরভূম, দার্জিলিং, পশ্চিম মেদিনীপুর ও পুরুলিয়া। হাওড়া, কলকাতা দক্ষিণ, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান এবং পূর্ব মেদিনীপুরে ৪টি করে গণনাকেন্দ্র রাখা হয়েছে। কোচবিহার, হুগলি ও মুর্শিদাবাদে গণনাকেন্দ্রের সংখ্যা ৫ এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৬টি গণনাকেন্দ্র রয়েছে।

    ৪মে সকাল আটটা থেকে গণনার কাজ শুরু হবে। এবার নতুনত্ব হিসেবে গণনা কেন্দ্রে ঢোকার জন্য QR কোড-সহ আইডেন্টিটি কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কমিশনের গাইডলাইন অনুযায়ী গণনা কেন্দ্রের ভিতরে একবার ঢুকে গেলে আর বেরনো যাবে না। গণনা কেন্দ্রের ভিতরে ঢোকার সময়ে কাউন্টিং এজেন্টরা কেবলমাত্র ১৭সি ফর্ম,পেন ও সাদা কাগজ সঙ্গে রাখতে পারবেন। বাইরের কোনও জিনিস নিয়ে গণনা কেন্দ্রের ভিতরে প্রবেশ করা যাবে না|

    প্রথমে পোস্টাল ব্যালট গোনার কাজ শুরু হবে| সেখানেও থাকবে প্রথমে ইটিপিবিএস-এর মাধ্যমে স্ক্যান করার কাজ। কোন টেবিলে কোন ভোটকেন্দ্রের গণনা হবে তা প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে আগে থেকেই জানিয়ে দেওয়া হবে| তার ভিত্তিতেই প্রতিটি কাউন্টিং হলের ভিতরে কাউন্টিং এজেন্টরা ঢুকতে বা বেরোতে পারবেন|

    নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, টেবিলে গণনার পরে তা যাবে রিটার্নিং অফিসারের কাছে। সেখানে কম্পাইলেশন হওয়ার পর তা পর্যবেক্ষণ করবেন পর্যবেক্ষকরা| তারপরেই তাতে সিলমোহর পড়বে ও তার ডেটাশিট তৈরি হবে। এরপর তা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হবে, যেখান থেকে সাধারণ মানুষ দেখতে পাবেন ফলাফলের সামগ্রিক চিত্র। রাজ্যের ৭৭টি গণনাকেন্দ্রেই ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে। বৃহস্পতিবার রাতেই বা শুক্রবার কলকাতাসহ সন্নিহিত গণনাকেন্দ্রগুলির সুরক্ষা ব্যবস্থা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে পারেন সিইও বলে জানা গিয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)