বৃষ্টি মাথায় সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে ছুটে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই রয়েছে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের স্ট্রংরুম। বৃহস্পতিবার রাত আটটা নাগাদ সেখানে পৌঁছন মমতা। তারপরে রাত প্রায় ১২টা নাগাদ সেখান থেকে বেরোন তিনি।
বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘এখানে আমার স্ট্রংরুম আছে। ইভিএম ম্যানিউপুলেশনের অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। আমি খবর পাওয়া মাত্র এখানে এসেছি। প্রথমে কেন্দ্রীয় বাহিনী ঢুকতেই দিচ্ছিল না। কিন্তু নির্বাচনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রার্থী যেতে পারেন।’ ইভিএম কারচুপি হচ্ছে কিনা সেই প্রশ্নে মমতা জানান, তিনি এমন অভিযোগ পাওয়ার পরেই নিজে দেখতে এসেছিলেন।
রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়েও মুখ খুলেছেন তিনি। এ দিন মমতা বলেন, ‘রাজ্য পুলিশ যদি নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে না পারে, সেটা তাদের ব্যর্থতা। এখন তো আমার হাতে নেই। বাইরের কোনও শক্তি তাদের উপর চাপ দিচ্ছে।’ গণনা লুট করার চেষ্টা করা হলে, তা রোখা হবে বলে বার্তা দিয়েছেন তিনি।
মমতা সাখাওয়াত মেমোরিয়ালের স্ট্রংরুমের ভিতরে থাকার সময়ে, বাইরে তৃণমূলের লোগো লাগোনো একটি প্রচার গাড়ি ঘিরে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখানো হয়। সেই ঘটনার প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এখানে যাঁরা স্লোগান করছেন, তাঁরা বাইরে থেকে এসেছেন। এটা আমার এলাকা, চাইলে এক ডাকে ১০ হাজার লোক এনে দাঁড় করিয়ে দিতে পারি।’
এর আগে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রংরুমে ইভিএম-এর নিরাপত্তা নিয়ে অভিযোগ তোলে তৃণমূল। ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের বাইরে ধর্নায় বসে পড়েন তৃণমূলের প্রার্থীরা। পৌঁছে যান বিজেপি প্রার্থীরাও। তা নিয়ে বিস্তর গন্ডগোল হয় সেখানে। পরে রাজ্যের সিইও অফিস গোটা অভিযোগ নস্যাৎ করে দেন। পোস্টাল ব্যালট বা ইভিএম ব্যালট কোনওটাই কারচুপি করা হয়নি বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সব প্রার্থীকে জানিয়েই নিয়ম মতো সব কাজ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।
স্ট্রং রুমের বাইরে পরিকাঠামো বৃদ্ধির কথা জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। বাইরে সংবাদমাধ্য়মের কর্মীদের জন্যও জায়গা করা উচিত বলে জানিয়েছেন তিনি।