এই সময়, কলকাতা ও ডায়মন্ড হারবার: বঙ্গে দ্বিতীয় দফার ভোটে যে ক’টি বুথে ইভিএমে বিকৃতির অভিযোগ উঠেছিল, সেখানে পুনর্নির্বাচন হবে কি না, তার উপরে সরাসরি নজর রাখছে দিল্লির নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সূত্রের খবর, এই বুথগুলির বিষয়ে খোঁজ নিতে খোদ দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমার বৃহস্পতিবার ফোন করেছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল ও রাজ্যে নিযুক্ত বিশেষ নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তকে। সিইসির নির্দেশে সুব্রত নিজেই ওই বুথগুলির স্ক্রুটিনির জন্য এ দিন পৌঁছে যান ডায়মন্ড হারবারে। রাত পর্যন্ত ডায়মন্ড হারবার, ফলতা, মগরাহাটের সংশ্লিষ্ট বুথগুলিতে রিপোলের ব্যাপারে স্ক্রুটিনি চলে। তবে সেই কাজ এ দিনও শেষ হয়নি। ফলে কতগুলি বুথে শেষ পর্যন্ত পুনর্নির্বাচন করা হবে, তা রাত পর্যন্ত জানায়নি কমিশন।
শুধু ইভিএমে টেপ বা আতর লাগানোর ঘটনাই নয়, নতুন করে অভিযোগ উঠেছে বুথের মধ্যে থেকে ফেসবুকে রিল করারও। এ বারের ভোটে বুথে মোবাইল নিয়ে ঢোকা নিষিদ্ধ ছিল। তারপরেও কে বা কারা মোবাইল নিয়ে ঢুকেছিল, সেখানকার বিএলও বা প্রিসাইডিং অফিসার অথবা কেন্দ্রীয় বাহিনী কী করছিল, সে ব্যাপারে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। রাজ্যের সিইও মনোজ বলেন, ‘আমাদের কাছে একাধিক ভিডিয়ো বা ছবি এসেছে। আমরা প্রত্যেকটি খতিয়ে দেখছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
লোকসভা হোক বা বিধানসভা ভোট, কোনও বুথে পুনর্নির্বাচন হবে কি না, তা সাধারণ ভাবে নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট প্রিসাইডিং অফিসার, রিটার্নিং অফিসার ও বিধানসভা কেন্দ্রের অবজ়ার্ভারের রিপোর্টের উপরে। বুধবারের ভোটের পরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ৭৭টি বুথে কোথাও ইভিএমে সেলোটেপ, কোথাও ব্ল্যাকটেপ, আবার কোথাও আতর লাগানোর অভিযোগ ওঠে। তার মধ্যে ফলতার ৩২, ডায়মন্ড হারবারের ২৯, মগরাহাটের ১৩ ও বজবজের ৩টি আসনের উল্লেখ ছিল। বুধবার জেলা থেকে ২৩টি বুথ নিয়ে প্রাথমিক রিপোর্ট আসে। তবে শুধু সেই রিপোর্টে ভরসা না–করে এ দিন সিইসির নির্দেশে ডায়মন্ড হারবারে পৌঁছন সুব্রত নিজেই। ডায়মন্ড হারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডায়মন্ড হারবার মহকুমার সাতটি বিধানসভার স্ট্রং–রুম ও গণনাকেন্দ্র তৈরি হয়েছে। এখানেই মগরাহাট পশ্চিম এবং ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের গণনা হওয়ার কথা। সেখানেই স্ক্রুটিনি পর্ব তত্ত্বাবধান করেন বিশেষ নির্বাচনী পর্যবেক্ষক।
রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ ডায়মন্ড হারবার ছাড়ার সময়ে বিশেষ অবজ়ার্ভার সুব্রত বলেন, ‘একদফা স্ক্রুটিনি হয়েছে। মগরাহাট পশ্চিম এবং ফলতার স্ক্রুটিনি সম্পন্ন করা যায়নি। আমরা সংশ্লিষ্ট বুথের ভিয়োও ফুটেজগুলো দেখছি। যে অভিযোগগুলো এসেছে, সেগুলো খতিয়ে দেখে নির্বাচন কমিশনের কাছে সুপারিশ–সহ রিপোর্ট পেশ করব।’ সূত্রের দাবি, এখনও পর্যন্ত ডায়মন্ড হারবারের অবজ়ার্ভার চারটি বুথে রিপোল চেয়েছেন। রিটার্নিং অফিসারের রিপোর্ট খতিয়ে দেখে নির্বাচন কমিশনের কাছে বিষয়টি জানানো হবে। আজ, শুক্রবার সকালের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের কাছে রিপোর্ট পৌঁছে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সুব্রত বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন যে ভাবে কাজ করতে বলেছে, সে ভাবেই আমরা কাজ করছি।’ এ দিন স্ক্রুটিনির সময়ে গণনাকেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন ফলতার বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডা।
তাঁর দাবি, ‘বহু বুথে তৃণমূল সাইলেন্ট সন্ত্রাস চালিয়েছে। সাধারণ মানুষ ভোট দিতে পারেননি। তাই আমরা ১৫০টিরও বেশি বুথে পুনর্নির্বাচনের আবেদন জানিয়েছি। বিশেষ পর্যবেক্ষককেও সমস্ত বিষয় জানানো হয়েছে। এমনকী, আতর লাগানো ইভিএমগুলি ফরেন্সিক পরীক্ষায় পাঠানোর জন্যও আবেদন জানিয়েছি।’ যদিও বিজেপির সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। তাঁর দাবি, ‘বিজেপির কোনও জনসমর্থন নেই। তাই হারের আশঙ্কায় এখন নানা অভিযোগ করছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারির মধ্যেও মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে ভোট দিয়েছেন। মানুষ আমাদের পক্ষেই রায় দেবেন।’
এ দিকে বৃহস্পতিবার সকালেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায় ফলতার সাঁইপুর গ্রামে। অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা তালিকা হাতে গ্রামে ঢুকে জাহাঙ্গির খানের অনুগামীদের খোঁজ চালায় এবং কয়েকজনকে জোর করে ক্যাম্পে তুলে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে দুপুরে সাঁইপুরে পৌঁছন জাহাঙ্গির নিজে। তাঁকে ঘিরে ক্ষোভ উগরে দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তৃণমূল প্রার্থীর অভিযোগ, ভোট পরবর্তী পরিস্থিতিতেও সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে।