• ৯০০ কিমির বজ্রগর্ভ মেঘের সারিতে রেকর্ড বৃষ্টি বাংলায়
    এই সময় | ০১ মে ২০২৬
  • এই সময়: এপ্রিলে বৃষ্টিপাতের রেকর্ড গড়ল কলকাতা। রাত সাড়ে আটটার পরে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে যে বৃষ্টি শুরু হয়েছিল, সেটা দক্ষিণবঙ্গের আটকে থাকেনি। নেপাল থেকে শুরু করে বিহার ও উত্তরবঙ্গ হয়ে গোটা দক্ষিণবঙ্গ এবং ওডিশার অনেকখানি এলাকায় টানা কয়েক ঘণ্টা প্রবল বৃষ্টি হয়। ওই সময়ে কলকাতার আলিপুর চত্বর ৫৪.২ মিলিমিটার বৃষ্টি পেয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। পুনের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ট্রপিক্যাল মিটিওরোলজি (আইআইটিএম)-র রেকর্ড অনুযায়ী, এপ্রিলের কলকাতায় একদিনে এর চেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে মাত্র ছ'বার।

    কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে প্রায় 'সেঞ্চুরি' করে ফেলেছিল হাওড়ার আমতা। আবহাওয়া দপ্তরের হিসেব, বুধবার সেখানে বৃষ্টি হয় ৯৭.১ মিমি। ৭৫.৭ মিমি এবং ৬২.৮ মিমি বৃষ্টি পেয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে থেকেছে কলাইকুন্ডা এবং সল্টলেক। বৃষ্টির সঙ্গে দমকা হাওয়ার দাপটে অল্প সময়ে তাপমাত্রা নেমেছিল ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২.২ ডিগ্রি। ক'ঘণ্টা পরেই তা পৌঁছয় ২২-এর ঘরে। শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা মঙ্গলবারের তুলনায় ৭ ডিগ্রিরও বেশি নেমে ২০.৪ ডিগ্রিতে পৌঁছয়।

    বুধবার রাতে বৃষ্টিতে ভিজেছে উত্তরবঙ্গও। এ দিন জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ি (৬৮.২ মিমি), বড়দিঘি (৬৬ মিমি) এবং কোচবিহারের মাথাভাঙা (৬০.৮ মিমি) সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি পেয়েছে। বর্ষাকাল না হলেও রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণে বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টিতে 'স্কোয়াল লাইন'-এর হাত দেখছেন আবহবিদরা।

    আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা বলেন, 'স্কোয়াল লাইন হলো বজ্রগর্ভ মেঘের দীর্ঘ এবং সরলরেখার মতো সারি। এখানে পর পর বজ্রগর্ভ মেঘ পাশাপাশি বা একটি লাইনের মতো। এগোতে থাকে।' বুধবার বাংলার উপর যে সারিটি তৈরি হয়েছিল, সেটি অন্তত ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ছিল বলে জানান আবহবিদরা।

    জলবায়ু বিজ্ঞানীরা জানান, তীব্র বজ্রপাত, বিদ্যুৎ চমক এবং দমকা হাওয়ার উপস্থিতি হলো 'স্কোয়াল লাইন'-এর বৈশিষ্ট্য। আবহবিদরা বলছেন, 'স্কোয়াল লাইন পরপর কিছু ধাপে তৈরি হয়। প্রথমে মাটির কাছাকাছি জমে থাকা গরম ও আর্দ্র বাতাস উপরে উঠতে থাকে। পরে সেটি উপরের স্তরে শীতল বাতাসের সঙ্গে মিশে বজ্রগর্ভকিউমুলোনিস্বাস মেঘ তৈরি করে। এই মেঘ একটি লাইনে জমে। তার পরে শুরু হয় বজ্রপাত ও ঝড়বৃষ্টি। এই প্রক্রিয়া হতে থাকে দীর্ঘ লাইন জুড়ে হয়। বুধবার যেমনটা হয়েছে। ঝড়ের সময়ে ঠান্ডা বাতাস উপর থেকে নীচে নেমে সামনে জমা গরম হাওয়াকে ফের উপরে তুলে দেয়। ফলে ঝড়ের পরিবেশ তৈরি হয়। এ ভাবে 'স্কোয়াল লাইন' নিজেই নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

  • Link to this news (এই সময়)