• ‘মরতে তো হবেই…’, ডিজিটাল গ্রেপ্তারের দুর্ভোগের মধ্যে আত্মহত্যা উত্তরপ্রদেশের মহিলার
    এই সময় | ০১ মে ২০২৬
  • আত্মঘাতী হয়েছেন তিনি এক গৃহবধূ। আত্মহত্যার আগে নিজের ছোট মেয়েকে তিনি একটি ‘নোট’ লিখে গিয়েছেন। মরা ছাড়া তাঁর অন্য কোনও উপায় নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। তাতেই জানা গিয়েছে আত্মহত্যার কারণ। ডিজিটাল অ্যারেস্ট করা হয়েছিল ওই মহিলাকে। তার পরেই চরম পদক্ষেপ করেন তিনি। উত্তরপ্রদেশের বিজনৌর ( Bijnor) এলাকার ঘটনা। এই নিয়ে থানায় অভিযোগও দায়ের করেছেন মহিলার স্বামী। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

    পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতের নাম মণিকা (২৮)। তাঁর দুই মেয়ে যখন ঘুমিয়ে ছিল তখনই গলায় ওড়নার ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। বৃহস্পতিবার পুলিশ জানিয়েছে, সামাজিক কলঙ্কের ভয়ে কাউকে কিছু না জানিয়ে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করেছিল পরিবার। তবে, ওই ‘সুইসাইড নোট’ উদ্ধারের পরে মৃত্যুর কারণ জানা গিয়েছে।

    জানা গিয়েছে, ‘সুইসাইড নোট’-এ মণিকা উল্লেখ করেছেন, এক অজ্ঞাত পরিচয় যুবক তাঁর জীবন অসহনীয় করে তুলেছিল। এই ঘটনা ডিজিটাল গ্রেপ্তারের (digital arrest) ইঙ্গিত দেয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    সূত্রের খবর, ছোট মেয়ে জিয়াকেই ‘সুইসাইড নোট’ লিখেছিলেন মণিকা। তাতেই তিনি লিখেছেন ‘দুঃখিত জিয়া, মা-কে মরতে তো হবেই’ ।

    এরই পাশাপাশি স্বামী রনধীরকে একটি চিঠি লিখে গিয়েছেন মণিকা। কী ভাবে প্রবল মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন তিনি, তার উল্লেখ করা হয়েছে সেখানে। এক ব্যক্তি তাঁকে গত কয়েক দিন ধরে ব্ল্যাকমেল (blackmail) করছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। এই কারণেই এই চরম পদক্ষেপ করতে বাধ্য হচ্ছেন তিনি বলেও ওই নোটে উল্লেখ করেন মণিকা।

    এর পরেই তাঁর ফোন খতিয়ে দেখেন পরিবারের লোকজন। তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ(WhatsApp) কল, মেসেজ এবং অডিয়ো রেকর্ডিংও দেখা হয়। তাতেই দেখা গিয়েছে,অন্তত ৫টি নম্বর থেকে ওই কল এবং মেসেজ করা হয়েছিল। কিছু ক্ষেত্রে, ফোনকারীরা ক্রাইম ব্রাঞ্চের আধিকারিক সেজে ফোন করত। আবার তাঁকে ভয় দেখানোর জন্য তথ্য পাচারের মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ করত।

    মহিলার স্বামীর অভিযোগ, এই রকম ফাঁদে ফেলে তাঁর স্ত্রীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়েছিল। মণিকার জীবন নষ্ট করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। তা সহ্য করতে না পেরেই আত্মহত্যা করেছেন তিনি। এমন কি মণিকার শেষকৃত্য চলার সময়েও তাঁর ফোনে পুলিশের পোশাক পরে একজন ভিডিয়ো করেছিলেন বলেও জানা গিয়েছে। ওই ব্যক্তি নিজেকে ক্রাইম ব্র্যাঞ্চে আধিকারিক বলে পরিচয় দিয়ে মণিকার সঙ্গে কথা বলতে চান বলেও জানিয়েছিলেন। মণিকা মারা গিয়েছে জানা পরে আইনি পদক্ষেপ করার হুমকিও দিয়েছিলেন ওই ব্যক্তি, দাবি পরিবারের সদস্যদের। এমন কি বুধবারেও ফোন করে রনধীরকে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

    এর পরেই বৃহস্পতিবার বিজনৌরের কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন রনধীর। যে নম্বরগুলি থেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল সেগুলিও পুলিশকে জানিয়েছেন তিনি।

    সেখানকার পুলিশ সুপার অভিষেক ঝা জানিয়েছেন, পুরো ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কারা মণিকাকে হুমকি দিতেন তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

  • Link to this news (এই সময়)