• ভোটের প্রভাব পড়ল খাবারে? রানিনগরে বাড়ন্ত মিড-ডে মিলের চাল
    এই সময় | ০১ মে ২০২৬
  • এই সময়, রানিনগর: ভোটের মাসে চাল সরবরাহ না–হওয়ায় মিড–ডে মিলের রান্না বন্ধ হয়ে গিয়েছে মুর্শিদাবাদের রানিনগর-১ ব্লকের বিভিন্ন স্কুলে। তার প্রভাব পড়ছে পড়ুয়াদের হাজিরায়। মিড-ডে মিলের রান্না বন্ধ থাকার কারণে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা স্কুলের পাশাপাশি শিশু শিক্ষাকেন্দ্র ও মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্রগুলিতে ছাত্রছাত্রী আসা কমে গিয়েছে বলে অভিযোগ।

    চাল সরবরাহ না–হওয়ায় মিড-ডে মিল রান্নার প্রভাব পড়েছে ডোমকল মহকুমা এলাকার রানিনগর-১ ব্লকের ৭৯টি প্রাথমিক, ১১টি মাধ্যমিক ও পাঁচটি মাদ্রাসা স্কুলে। এ ছাড়াও ৪২টি শিশু শিক্ষাকেন্দ্র ও ছ'টি মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্রে বন্ধ রয়েছে মিড-ডে মিলের রান্না। এর ফলে আগে যে ১৫০-১৭৫ জন পড়ুয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত আসত, এখন সেই স্কুলে পড়ুয়া উপস্থিতির সংখ্যা ৮০-৯০ জন। অভিযোগ, বিভিন্ন স্কুল কর্তৃপক্ষ লিখিত আবেদন করা সত্ত্বেও চাল সরবরাহের ব্যাপারে রানিনগর-১ ব্লক প্রশাসন যেমন উদাসীন, তেমনই নীরব ব্লকের মিড-ডে মিল বিভাগের কর্মীরাও।

    সিপিএমের শিক্ষক সংগঠন এবিপিটিএ–র ডোমকল জ়োনাল কমিটির সম্পাদক তথা নশিপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনারুল ইসলাম বলেন, 'রানিনগর-১–এর বিডিওকে মার্চের শেষে চিঠি দিয়ে এপ্রিল মাসের চাল সরবরাহ করার আবেদন জানিয়েছি। কিন্তু এপ্রিল শেষ হয়ে গেল, চালের দেখা নেই। ফলে বন্ধ রয়েছে মিড-ডে মিলের রান্না।' তাঁর সংযোজন, 'মিড-ডে মিলের রান্না বন্ধ থাকায় সবচেয়ে প্রভাব পড়েছে পড়ুয়াদের উপস্থিতিতে। আমার স্কুলে আগে ১৫০-১৭৫ জন পড়ুয়া এলেও এখন সেখানে একশো পড়ুয়াও আসছে না।'

    হুদাহেরামপুর প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক সৌমিত্র দত্ত বলেন, 'এপ্রিলের শুরুতেই চালের রিকুইজ়িশন দিয়ে সরবরাহ করার কথা জানাই। কিন্তু প্রশাসন চাল সরবরাহ করেনি। ফলে বন্ধ রয়েছে মিড-ডে মিলের রান্না। এ দিকে, রান্না বন্ধ থাকায় পড়ুয়ার সংখ্যা কিছুটা হলেও কমেছে।'

    সমস্যা যে একটা রয়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির রানিনগর-১ চক্রের কনভেনর নিশীথকুমার দে। তিনি বলেন, 'অনেক স্কুলের প্রধান শিক্ষক এ বিষয়টি নিয়ে আমাকে জানিয়েছেন।'

    রানিনগর-১ অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক তপশ্রী মুখোপাধ্যায় বলেন, 'জেলা থেকে চাল সরবরাহ না–হওয়ার কারণে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে দ্রুত সমস্যা মিটে যাবে।' ওই একই কথা জানান রানিনগর-১ ব্লক মিড-ডে মিলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সুমন ত্রিবেদী। তিনি বলেন, 'ভোটের কাজে ব্যস্ততা থাকায় সম্ভবত চাল সরবরাহ করার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়েছে।' এমনকী, চালের অভাবের কারণে যে মিড-ডে মিল বন্ধ, সে কথা অ্যাপ-এ 'টিক' দিয়ে জানানোর ক্ষেত্রেও প্রশাসনের তরফে হুমকি দিয়ে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ প্রধান শিক্ষকদের একাংশের। নাম না প্রকাশের শর্তে এক প্রধান শিক্ষক বলেন, 'অন্যান্য (আদার্স) কারণে টিক দিতে বলা হয়েছে। চালের অভাবের জায়গায় টিক দিলে 'শো-কজ়' করার শাসানি দেওয়া হয়েছে ব্লক প্রশাসন থেকে।'

    রানিনগর-১–এর বিডিও সৈকত বিশ্বাস বলেন, 'অন্যান্য কারণের জায়গায় টিক দিতে আমি বলিনি। যাঁরা এই অভিযোগ করছেন, তাঁরা ঠিক কথা বলছেন না। তবে আমি চাল সরবরাহ করার জন্য জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি। জেলা থেকে চাল না পাঠানোর কারণে স্কুলগুলিতে সরবরাহ করা যায়নি।'

    ডোমকল মহকুমা এলাকার ডোমকল, জলঙ্গি, রানিনগর-২ ব্লকে ওই সমস্যা সৃষ্টি না হলেও রানিনগর-১ ব্লকে চাল সরবরাহে সমস্যা দেখা দিলো কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মিড-ডে মিলের মুর্শিদাবাদ জেলার ভারপ্রাপ্ত অধিকারিক চিত্তজিৎ বসু বলেন, 'চাল মজুত করে রাখার ক্ষেত্রে হেরফের হওয়ার কারণে সম্ভবত ওই বিপত্তি হয়েছে। তবে ভোটের কাজের ব্যস্ততার মাঝে চাল সরবরাহ করার ব্যাপারে পদক্ষেপ করা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে রানিনগর-১ ব্লকের প্রতিটি স্কুলে মিড-ডে মিলের চাল পৌঁছে যাবে।'

  • Link to this news (এই সময়)