বাংলায় অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের দাপট নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, অনেক ক্ষেত্রেই একটি সাধারণ স্মার্টফোনের চেয়েও কম দামে বন্দুক পাওয়া যাচ্ছে। আর এই সস্তা অস্ত্রের বড় অংশই আসছে বিহার ও ঝাড়খণ্ড থেকে। যা আইনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে নতুন করে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
নির্বাচন শেষ হতেই এই উদ্বেগ আরও বেড়েছে। নির্বাচন কমিশনের অফিসারদের মতে, বিশেষ করে শহুরে এলাকায় ভোট পরবর্তী শান্তি বজায় রাখা কঠিন হয়ে উঠতে পারে, কারণ অবৈধ অস্ত্রের সহজলভ্যতা ক্রমশ বাড়ছে।
তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে ২১ এপ্রিলের মধ্যে রাজ্যে অন্তত ৩৩২টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৫৯০টি গুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এগুলো মোট পাচারের খুবই সামান্য অংশ। মুর্শিদাবাদ, কোচবিহার এবং কলকাতা, এই জেলাগুলিতে সবচেয়ে বেশি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে।
পুলিশের দাবি, 'মেড ইন ইউএসএ' বা 'মেড ইন সার্বিয়া' লেখা থাকলেও অধিকাংশ অস্ত্রই আসলে দেশীয়ভাবে তৈরি। বিহারের মুঙ্গের ও ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট কারখানায় এই অস্ত্র তৈরি হয়, পরে সেগুলো বাংলায় পাচার করা হয়।
অস্ত্র পাচারের ক্ষেত্রে বাস রুটই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। ভাগলপুর থেকে বাসে করে অস্ত্র এনে ডানকুনি বা কলকাতার ময়দান এলাকায় নামানো হয়। কখনও সন্দেহ এড়াতে পাচারকারীরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে আসে এবং শাড়ির ভাঁজে অস্ত্র লুকিয়ে রাখে।
শুধু বাইরের রাজ্য নয়, বাংলার মধ্যেও এখন ছোট লেদ কারখানায় অস্ত্র তৈরির প্রবণতা বাড়ছে। নিমতা, ডোমজুর বা পিলখানার মতো এলাকায় অতীতে এমন কারখানার হদিস মিলেছে। এই কারখানাগুলো সাধারণ ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিটের আড়ালে চলে, তাই শনাক্ত করা কঠিন।
দামের দিক থেকেও এই অস্ত্রগুলো ভয়ঙ্করভাবে সহজলভ্য। একটি একনলা বন্দুক পাওয়া যায় প্রায় ৪,০০০ টাকায়। হাতে তৈরি রিভলভার ১২,০০০-১৫,০০০ টাকার মধ্যে, আর সম্পূর্ণ ৭.৬৫ মিমি পিস্তলের দাম ৩০,০০০-৪০,০০০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে।
আরও উদ্বেগের বিষয়, অস্ত্র দেশীয় হলেও গুলি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আসল। যা কখনও অস্ত্র কারখানা থেকে চুরি হয়ে আসে, কখনও লাইসেন্সপ্রাপ্ত বিক্রেতাদের কাছ থেকে বেআইনিভাবে সংগ্রহ করা হয়।
পুলিশের একাংশ স্বীকার করেছে, অবৈধ অস্ত্রের এই চক্র ভাঙা সহজ নয়। দীর্ঘদিন ধরে নজরদারি, আন্তঃরাজ্য গোয়েন্দা তথ্য এবং পর্যাপ্ত জনবল, সবকিছুর অভাব রয়েছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই পাচার রোখা কঠিন হয়ে পড়ে।