নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: অধিকাংশ এক্সিট পোল বিজেপিকে এগিয়ে রেখেছে বাংলায়। অথচ গেরুয়া শিবির নিজেই তা নিয়ে উচ্ছ্বাস দেখাচ্ছে না। বিগত ১৫ বছরের এক্সিট পোল নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করা বিজেপি এবার যথেষ্ট সতর্ক। বুথফেরত সমীক্ষা থেকে দলগতভাবেই দূরত্ব বজায় রাখছে। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেছেন, ‘আমরা এক্সিট পোলকে খুব বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি না। প্রকৃত ফলাফল ৪ মে। সেদিনের জন্য অপেক্ষা করব। আমাদের বিশ্বাস, তামিলনাড়ুতে এনডিএ ভালো ফল করবে। বাংলাও বিজেপি দখল করবে।’ কমবেশি একই সুর বিজেপির মুখপাত্র অজয় অলকের গলাতেও। তিনি বলেছেন, ‘এক্সিট পোল নিয়ে আমরা কখনো উত্তেজিত হই না। যে রাজ্যে এক্সিট পোল দেখিয়েছে আমরা জয়ী হব, সেটি একটি প্রবণতা মাত্র। কিন্তু সব রাজ্যেই আমরা ভালো করব। এক্সিট পোলকে মাপকাঠি ধরি না।’
দেশের অন্যতম খ্যাতনামা বুথফেরত সমীক্ষক সংস্থা ‘অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া’ হঠাৎ করেই এদিন সকালে জানিয়ে দেয় যে, তারা পশ্চিমবঙ্গের জন্য কোনো এক্সিট পোল করছে না। অথচ গতকালও তারা জানিয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় দফার ভোট যেহেতু সন্ধ্যা পর্যন্ত হচ্ছে, তাই দ্রুত সব রিপোর্ট পাওয়া সম্ভব নয়। সেই কারণে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রকাশ করা হবে পশ্চিমবঙ্গের এক্সিট পোল। সেই ‘অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া’ আচমকা এদিন বিবৃতি প্রকাশ করে জানায়, তাদের পক্ষে বাংলার পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কারণ, বাংলায় তাদের সমীক্ষকরা যখন ভোটারদের কাছে গিয়েছে, তারা দেখেছে ৭০-৮০ শতাংশ মানুষ কোনো কথাই বলতে রাজি নয়। অর্থাৎ, ১০ জনের মধ্যে ৮ জনই কথা বলতে নারাজ। এভাবে মাত্র ২০ শতাংশ ভোটারের সঙ্গে কথা বলে কোনো পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়। তাই তারা বন্ধই করে দিয়েছে এক্সিট পোল। এই সমীক্ষক সংস্থা ২০২১ এবং ২০২৪ সালে বাংলার জন্য যে সমীক্ষা প্রকাশ করেছিল, সেটি আসল ফলাফলে ভুল প্রমাণিত হয়। তাই জল্পনা চলছে, এই সংস্থা আর ভুল করতে রাজি নয়। তাদের বক্তব্য, ‘এরকম ‘সাইলেন্ট ভোটার’ যে রাজ্যে সিংহভাগ, তাদের মনের গতিবিধি না জেনে যে কোনো পূর্বাভাসই ভুল হতে বাধ্য। অতএব আমরা কোনো ঝুঁকি নেব না!’