• টিকিট কাটার সময় ‘রিগ্রেট’ বা ‘নো রুম’ বার্তা পেয়েছেন কতজন যাত্রী, জানে না রেল
    বর্তমান | ০১ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: রেলের বিরুদ্ধে এবার উঠছে তথ্য গোপনের মতো গুরুতর অভিযোগ। সম্প্রতি একটি আরটিআইয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে, ট্রেনের টিকিট কাটতে গিয়ে কতজন রেল যাত্রী ‘রিগ্রেট’ বা ‘নো রুম’ বার্তা পেয়েছেন? কিন্তু এপ্রশ্নের কোনো জবাবই দেয়নি রেল বোর্ড। বরং আরটিআইয়ের জবাবে তারা জানিয়েছে, এমন কোনো তথ্য তারা সংগ্রহে রাখে না। স্বাভাবিক কারণেই রেলের এহেন জবাবকে কেন্দ্র করে চর্চা একেবারে তুঙ্গে উঠেছে। প্রশ্ন উঠছে, যাত্রী হয়রানির বাস্তব ছবি প্রকাশ পেয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই কি জবাব এড়িয়ে যেতে হচ্ছে রেল বোর্ডকে? 

    রাজধানী, শতাব্দী, দুরন্ত, বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের মতো প্রিমিয়াম ট্রেন হোক বা দূরপাল্লার অন্যান্য ট্রেন, কনফার্মড টিকিট পেতে দীর্ঘদিন ধরেই নাজেহাল হচ্ছেন সাধারণ রেল যাত্রীদের একটি বড়ো অংশ। জেনারেল কোটা তো দূর অস্ত, তৎকালে ট্রেনের টিকিট কাটতে চাইলেও অধিকাংশ সময়েই কনফার্মড আসন পাওয়া যাচ্ছে না। রেল যাত্রীদের অভিযোগ, ওয়েবসাইটে টিকিটের বুকিং উইন্ডো খোলার মিনিট দু’য়েকের মধ্যেই সব টিকিট শেষ হয়ে যাচ্ছে। এর প্রেক্ষিতে বারবার অভিযোগ উঠছে রেলের ‘ডিজিটাল দালালরাজে’র বিরুদ্ধে। অসাধু কারবারিদের নাগাল পেতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে রেলমন্ত্রককে। এর ফল ভুগতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের। ট্রেনের টিকিট বুকিংয়ের সময় ‘রিগ্রেট’ বা ‘নো রুম’ বার্তা ফুটে ওঠার অর্থই হল, আর কোনো টিকিট অবশিষ্ট নেই। যাবতীয় ‘কোটা’ শেষ। সাধারণত ‘পিক সিজনে’ প্রবল ‘রাশ’ চলার সময় এপরিস্থিতি হয়। কিন্তু রেল যাত্রীদের একটি বড়ো অংশের অভিযোগ, সারা বছর ধরেই কমবেশি এমন সংকট তৈরি হচ্ছে। অথচ রেল কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এই অবস্থায় মন্ত্রকের সংশ্লিষ্ট জবাবকে লক্ষণীয় বলেই মানছে রেল বিশেষজ্ঞ মহল। 

    তথ্য জানার অধিকার আইনের মাধ্যমে ২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরের এসংক্রান্ত পরিসংখ্যান জানতে চেয়েছিলেন সমাজকর্মী চন্দ্রশেখর গৌড়। রেল যাত্রীদের একটি বড়ো অংশের অভিযোগ, টিকিট না পেয়ে অনেকেই ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে ‘ভিআইপি’ কিংবা ‘ইমার্জেন্সি’ কোটার (ই কিউ) ব্যবহার করে। কিন্তু সাধারণ মানুষকে হেনস্তার শিকার হতে হয়। আরটিআইয়ে এসংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে অবশ্য রেলমন্ত্রক জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরে ইমার্জেন্সি কোটার ৩৪.২৩ শতাংশ ব্যবহৃত হয়েছে। ওই অর্থবর্ষে ইমার্জেন্সি কোটায় (ই কিউ) ট্রেনে মোট আসন ছিল ৪ কোটি ৫ লক্ষ ৩ হাজার ৩৭৫। অর্থাৎ, শুধুমাত্র একটি আর্থিক বছরেই ট্রেনে ইমার্জেন্সি কোটায় প্রায় দেড় কোটি আসনের ব্যবহার হয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)