• তালিকায় নাম না ওঠায় হেনস্তার ভয়ে ভিনরাজ্যে কাজে যেতে শঙ্কায় শ্রমিকরা
    বর্তমান | ০১ মে ২০২৬
  • সংবাদদাতা, ডোমকল : ভোট শেষ। দু’দিন বাদেই শুরু গণনা। এদিকে একদিন দু’দিন করে বেশ কয়েক সপ্তাহ কেটে গেলেও এখনও ভোটার তালিকায় নাম ফেরেনি এসআইআর-এ বাদ যাওয়া বহু ভোটারের। এদিকে তালিকায় নাম না থাকায় ভিনরাজ্যে হেনস্তার আশঙ্কা তাড়া করছে পরিযায়ী শ্রমিকদের। ফলে পেটে টান পড়লেও কাজে ফিরতে পারছেন না রানিনগর বিধানসভার বহু শ্রমিক।

    ডোমকল মহকুমার তিনটি বিধানসভার মধ্যে রানিনগরেই নাম বাদ পড়ার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। শুধুমাত্র রানিনগর বিধানসভার টেকারায়পুর অঞ্চলের ৬৯ ও ৭০ নম্বর এই দুই বুথ মিলিয়ে বাদ যাওয়া ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৮০০। অর্থাৎ এই দুই বুথে বিচারাধীন ভোটারদের প্রায় ৭২ শতাংশের নাম বাদ গিয়েছে। শুধু এখানেই নয়, কিছু বুথে হাতে গোনা কয়েকজনের নাম বাদ পড়লেও অনেক জায়গায় সেই হার ৫০ শতাংশেরও বেশি। তালিকায় যেমন রয়েছেন বহু পুরনো ভোটার, তেমন রয়েছেন বহু পরিযায়ী শ্রমিকও। তাঁদের অনেকেই ভোট দিতে ভিনরাজ্য থেকে বাড়ি ফিরেছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নাম না ওঠায় ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। ট্রাইবুনালে আবেদন করেও  তালিকায় ওঠেনি তাঁদের নাম। এই অবস্থায় ভোট শেষ হয়ে গেলেও ভিন রাজ্যে কাজে ফিরতে দু’বার ভাবতে হচ্ছে পরিযায়ী শ্রমিকদের। তালিকায় নাম না থাকায় ভিনরাজ্যে হেনস্তার স্বীকারের আশঙ্কা করছেন অনেকেই। ফলে পেটে টান পড়লেও ভোটার তালিকায় নাম না ওঠায় চিন্তায় কাজে ফিরতে পারছেন অনেকেই।টেকরায়পুর অঞ্চলের বাসিন্দা লাল্টু শেখ থাকেন কেরলে। আগেও বহুবার ভোট দিয়েছেন। কিন্তু এবার নাম বাদ গিয়েছে। হাজার কয়েক টাকা খরচ করে বাড়ি ফিরেও ভোট দিতে পারেননি। আক্ষেপের সুরে তিনি বলছিলেন, ভোট দিতে পারব ভেবেই বাড়ি ফিরেছিলাম। শেষ মুহূর্তে হয়তো নাম উঠবে-এই আশাই ছিল। কিন্তু কিছুই হল না। এখন আবার কাজের জায়গায় ফিরতে ভয় লাগছে। যদি হেনস্তার মুখে পড়তে হয়!একই অভিজ্ঞতা জসীম শেখেরও। তাঁর কথায়, বাপ-দাদার আমল থেকে আমরা এখানকার বাসিন্দা। তবু এখন নিজেদের নাগরিক প্রমাণ করতে হচ্ছে। এত নথি দেওয়ার পরও নাম উঠল না। ভোটও দিতে পারলাম না। এখন ভিনরাজ্যে গিয়ে কাজ করব কীভাবে, সেই চিন্তা কুরে কুরে খাচ্ছে।

    পরিযায়ী শ্রমিক ঐক্য মঞ্চের রাজ্য সম্পাদক আসিফ ফারুক বলেন, এই উদ্বেগ অমূলক নয়। গত বছরের শেষ থেকে ওড়িশা, গুজরাট সহ বিশেষ করে বিজেপিশাসিত রাজ্যে বাংলাদেশি সন্দেহে বহু শ্রমিক হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। স্থানীয়দের মারধোর থেকে শুরু করে পুলিশি হয়রানি একের পর এক জায়গায় হেনস্তার স্বীকার হতে হয়েছে । এখন আবার বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকেই বাদ গিয়েছে। সেই তালিকায় বহু পরিযায়ী শ্রমিকও রয়েছেন। চারিদিকে এমনভাবে প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ভোটার তালিকায় নাম না থাকলেই তাঁকে বাংলাদেশি সন্দেহে দেখা হচ্ছে। ফলে তাঁদের এই ভয় একেবারেই স্বাভাবিক।সব মিলিয়ে, ভোট শেষ হলেও অনিশ্চয়তার দোলাচলে দিন কাটছে রানিনগরের বহু পরিযায়ী শ্রমিকের। 
  • Link to this news (বর্তমান)