সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: আইএসসি দ্বাদশ এবং আইসিএসই দশম শ্রেণির পরীক্ষায় শিলিগুড়ির মুখ উজ্জ্বল করল তিন কৃতী পরীক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার এই দুই পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। তাতে সর্বভারতীয় মেধাতালিকায় শীর্ষে জায়গা করে নিয়ে নজর কেড়েছেন রাশি চৌবে, দিব্যেন্দু প্রামাণিক ও রৌণক কুমার।
দ্বাদশ শ্রেণির আইএসসি পরীক্ষায় শিলিগুড়ির দাগাপুরের মবার্ট হাইস্কুলের ছাত্রী রাশি চৌবে ১০০ শতাংশ নম্বর পেয়ে সর্বভারতীয় স্তরে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। তাঁর এই সাফল্যে পরিবার ও স্কুলে খুশির হাওয়া। শিলিগুড়ি শহরের বাবুপাড়ার গোশালা মোড়ের বাসিন্দা রাশি বরাবরই পড়াশোনায় মেধার পরিচয় দিয়ে আসছেন। তাঁর কোনও গৃহশিক্ষক ছিল না। মা রজনী চৌবে জানান, ছোটবেলা থেকেই রাশির পড়াশোনার প্রতি গভীর আগ্রহ। নার্সারি থেকে প্রতিটি ক্লাসে পরীক্ষায় প্রথম হয়েছে। আইএসসি’তেও রাশি ইংরেজি, ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ভূগোল এই চারটি বিষয়ে ১০০ নম্বর করে পেয়ে প্রথম হওয়ার ধারা বজায় রাখল। এবার ক্লাসে নয়, দেশের মধ্যে শীর্ষে ও। স্বাভাবিকভাবে মেয়ের এই কৃতিত্বে খুশি তাঁর বাবা সিদ্ধার্থ চৌবে ও মা রজনী চৌবে।
রাশির কথায়, পড়াশোনার জন্য নির্দিষ্ট সময়সূচি না থাকলেও সুযোগ পেলেই বই নিয়ে বসি। সিলেবাসের বাইরেও বিভিন্ন বিষয় পড়ার অভ্যাস রয়েছে। এটাই আমার সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি। ভবিষ্যতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে স্নাতক শেষে সিভিল সার্ভিসে যোগ দিয়ে ইন্ডিয়ান ফরেন সার্ভিসে কাজ করার লক্ষ্য রয়েছে আমার।
অন্যদিকে, দশম শ্রেণির আইসিএসই পরীক্ষায় শিলিগুড়ির অক্সিলিয়াম কনভেন্ট স্কুলের ছাত্র দিব্যেন্দু প্রামাণিক ৯৯.৮০ শতাংশ নম্বর পেয়ে মেধা তালিকার শীর্ষে যৌথভাবে স্থান পেয়েছে। দিব্যেন্দু ৫০০ এর মধ্যে ৪৯৯ নম্বর পেয়েছে। একই নম্বর পেয়েছে সেন্ট মাইকেল’স স্কুলের ছাত্র রৌণক কুমার। বিহারের পূর্ণিয়া থেকে এসে সপ্তম শ্রেণিতে সেন্ট মাইকেল’স স্কুলে ভর্তি হয়েছিল রৌণক। স্কুলেরই হস্টেলে থেকে পড়াশোনা করে রৌণক এই সাফল্য অর্জন করেছে। বর্তমানে
সে বোকারোতে উচ্চশিক্ষার
প্রস্তুতি নিচ্ছে। তার বাবা পূর্ণিয়ার চিকিৎসক।
দিব্যেন্দুর বাবা জীবানন্দ প্রামাণিক সরকারি চাকুরিজীবী, মা বাণী দেব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। একাধিক গৃহশিক্ষকের সহায়তা থাকলেও নিজের প্রচেষ্টায় অতিরিক্ত সময় দিয়ে পড়াশোনা করেছে বলে জানায় দিব্যেন্দু। ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করার ইচ্ছা রয়েছে তার।