• দিনভর হিসাব, প্রার্থীরা স্ট্রং রুম ঘুরে দেখলেন, কেউ থাকলেন স্ক্রুটিনিতে
    বর্তমান | ০১ মে ২০২৬
  • অগ্নিভ ভৌমিক, কৃষ্ণনগর: টানা প্রায় দেড় মাসের নির্বাচনি উত্তাপ, সভা-মিছিল, প্রচার। যুদ্ধ শেষে বৃহস্পতিবার স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন নদীয়া জেলার বিভিন্ন বিধানসভার প্রার্থীরা। তবে বিশ্রামের আবহ থাকলেও রাজনৈতিক ব্যস্ততা ছিল তাঁদের মধ্যে। কেউ বুথভিত্তিক ভোটের অঙ্ক কষছেন, কেউ স্ক্রুটিনিতে অংশ নিয়েছেন, আবার কেউ দলীয় কর্মীদের নিয়ে নির্বাচনি কার্যালয়ে কাটিয়েছেন। পাশাপাশি, গণনাকেন্দ্রের কাউন্টিং এজেন্ট ঠিক করা, তাঁদেজর মনোবল বাড়ানো নিয়ে চূড়ান্ত ব্যস্ত ছিলেন প্রার্থীরা। 

    পলাশীপাড়া কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তথা চাপড়ার বিদায়ী বিধায়ক রুকবানুর রহমান এদিন কলকাতায় যান বিধানসভার স্ট্যান্ডিং কমিটির শেষ বৈঠকে অংশ নিতে। কলকাতায় থাকলেও এলাকায় ভোট পরিস্থিতির উপর নজর ছিল তাঁর। তিনি বলেন, ‘গত দেড় মাস ধরে নির্বাচনের জন্য একটানা ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগই পাইনি। বিধানসভার স্ট্যান্ডিং কমিটির শেষ বৈঠক ছিল। তাই কলকাতায় এসেছি। এবার বাড়ি ফিরে একটু বিশ্রাম নেব।’ কালীগঞ্জ বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী আলিফা আহমেদের দিন কেটেছে বুথভিত্তিক ভোটের হিসেব কষে। বুথ এজেন্টদের কাছ থেকে বিভিন্ন ফর্ম সংগ্রহ করে ভোটের পর্যালোচনা শুরু করেন তিনি। বুথভিত্তিক রিপোর্ট হাতে পেয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী তিনি। আলিফা বলেন, ‘মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছেন। বুথ ধরে হিসেব-নিকেষ চলছে। খুব ভালো ফল হবে বলেই আমরা আশাবাদী।’ মন ভালো নেই কালীগঞ্জের সিপিএম প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিনের। টানা পরিশ্রমের পর তিনি এদিন পাড়ার লোকেদের সঙ্গে কথা বলেন, ভোট নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁর মুখে বারবার উঠে আসছিল মেয়ে তমান্নার কথা। বলছিলেন, ‘এমনই এক ভোটের রেজাল্টের দিন আমার মেয়েকে হারাতে হয়েছিল। তাই জীবনের বাকি সময়ে যতবার ভোট আসবে, ওর কথা মনে পড়বে।’

    চাপড়া বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী জেবের শেখ অবশ্য দিনভর নিজের নির্বাচনী কার্যালয়েই ছিলেন। সেখানে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা ও ভোট পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা করেন। তিনি বলেন, ব্লক সভাপতি ও অন্যান্য নেতারা স্ক্রুটিনির কাজে গিয়েছিলেন। আমি নির্বাচনি কার্যালয়ে থেকেই কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছি।’ ভোটের পর দিনেও যথেষ্ট সক্রিয় দেখা যায় নাকাশিপাড়ার তৃণমূল প্রার্থী কল্লোল খাঁকে। এদিন তাঁকে স্ট্রংরুমে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে দেখা যায়। আত্মবিশ্বাসী সুরে তিনি বলেন, ‘আমরা চতুর্থবার সরকার গঠন করতে চলেছি। নাকাশিপাড়ায় তৃণমূলের গড় অক্ষুণ্ণ থাকবে। স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা এবং সব কিছু ঠিকঠাক রয়েছে কিনা, সেটাই দেখতে এসেছিলাম।’ হরিণঘাটা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী নিজেই স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে যান। 

    বিজেপি শিবিরেও এদিন ভোটের ফলাফল ঘিরে জোর প্রস্তুতি চলেছে। রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী পার্থসারথী ঘোষ বলেন, ‘আজ একটু রিলাক্স মুডেই ছিলাম। দলীয় কর্মীরা এসেছিলেন। তাঁদের কাছ থেকেই ভোটের পরিস্থিতির খবর নিয়েছি। পাশাপাশি বিভিন্ন ফর্ম সংগ্রহ এবং কাউন্টিং এজেন্ট ঠিক করার কাজও করা হয়েছে।’ কৃষ্ণনগর দক্ষিণ কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সাধন ঘোষ অবশ্য ভোটের পরেও স্ট্রংরুমের উপর কড়া নজর রেখেছেন। তিনি বলেন, ‘সকাল আটটা নাগাদ স্ট্রংরুম থেকে বেরিয়েছি। সারারাত সেখানেই ছিলাম।’

    ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হলেও রাজনৈতিক মহলে এখন চর্চার কেন্দ্রবিন্দু ফলাফল। বুথভিত্তিক অঙ্ক কষে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী শাসক ও বিরোধী—উভয় শিবিরই। এখন সবার নজর ৪ তারিখের দিকে।
  • Link to this news (বর্তমান)