বিজেপির ‘বিভীষণ’দের দিয়ে তৃণমূলের গদ্দারদের চিহ্নিত করছে ঘাসফুল শিবির, কাউন্টিং এজেন্টদের নিয়ে শনিবার ভার্চুয়াল বৈঠক অভিষেকের
বর্তমান | ০১ মে ২০২৬
সুখেন্দু পাল ও সুমন তেওয়ারি: ভোটের দিন প্রতিটি নেতার উপর কড়া নজর ছিল তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের। কোন নেতা বাড়িতে বসে কাকে ভোট দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, কে লোক দেখানো ময়দানে নেমেছিলেন, তাঁদের প্রতিটি চালচলনের উপর ঘুরে বেড়িয়েছে ‘অদৃশ্য চোখ’। সমানে চলেছে তথ্য সংগ্রহের কাজও। আর এই গোয়েন্দাগিরিতে সহযোগিতা করে গিয়েছেন ‘বিজেপির বিভীষণ’রা। এদিকে, শনিবার কাউন্টিং এজেন্ট ও নেতাদের নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক করবেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, বুথ ফেরত সমীক্ষার উপর কোনওরকম আস্থা না দেখিয়েই গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত মাটি কামড়ে পড়ে থাকার ভোকাল টনিক দিতে পারেন তিনি। ইতিমধ্যেই দুই কারা কাউন্টিং এজেন্ট থাকবেন, তার তালিকা চূড়ান্ত করে ফেলেছে তৃণমূল। একেবারে ঠান্ডা মাথায়, স্নায়ুরচাপকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করে গণনা প্রক্রিয়া তাঁদের তদারকি করতে হবে। কোনওরকম প্ররোচনায় পা দেওয়া চলবে না। বৈঠকে এমনই নির্দেশ অভিষেক দিতে পারেন বলে সূত্রের খবর।
তৃণমূল সূত্রে খবর, পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বর এবং খণ্ডঘোষের দিকে নেতৃত্বের সব থেকে বেশি নজর ছিল। প্রচারে এসে এখানকার এক নেতার নাম না করে তৃণমূল নেতৃত্ব তাঁকে সতর্ক করেছিলেন। ভোটের দিন ওই নেতার প্রতি মুহূর্তের গতিবিধি নজরে রাখা হয়। নেতৃত্ব জানতে পেরেছে, ওইদিন তিনি দুপুর ১২টা পর্যন্ত নিজের গ্রামে ছিলেন। পরে পূর্বস্থলী বিধানসভার দিকে রওনা দেন। খণ্ডঘোষের দু’একজন নেতা দলের হয়ে ভোটের দিন সেভাবে সক্রিয় ছিলেন না। পূর্বস্থলী উত্তর বিধানসভা কেন্দ্র নিয়েও প্রতি মুহূর্তের খোঁজ শীর্ষ নেতারা নিয়েছেন বলে খবর।
পশ্চিম বর্ধমানেও ভোটের দিন দলের সঙ্গে গদ্দারি হয়েছে, এমন তথ্যও হাতে পেয়েছে তৃণমূল। জানা গিয়েছে, এবার ভোটে বহু বিক্ষুব্ধ বিজেপি নেতা কর্মী তৃণমূলকে সহযোগিতা করেছে। আবার অনেক তৃণমূল নেতা, কর্মীও সবরকম সুবিধা নিয়ে দলকে পিছন থেকে ছুরি মেরেছে। বিজেপির সেই ‘বিভিষণ’রাই চিহ্নিত করে দিয়েছে তৃণমূলের গদ্দারদের। নজর রাখছে বিজেপিও। যদিও প্রকাশ্যে এনিয়ে তারা মন্তব্য করতে চায়নি।
বিজেপি জেলা সহ-সভাপতি প্রশান্ত চক্রবর্তী বলেন, ‘বিজেপির নিয়ম অনুযায়ী, ফলাফলের পর থেকেই পরবর্তী নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। তখনই আমরা চিহ্নিত করব কারা দলে থেকে গদ্দারি করেছেন।’ তৃণমূল রাজ্য সম্পাদক ভি শিবদাসন দাসু বলেন, ‘যাঁরা দলের সঙ্গে বেইমানি করেছেন তাঁদের কঠোর শাস্তি পেতে হবে। তাঁরা জানে না, বিজেপির অন্দরেও আমাদের সাহায্য করার লোক রয়েছেন।’
পশ্চিম বর্ধমান জেলার রাজনীতেত গদ্দারির দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। দোলা সেন থেকে মুনমুন সেনের হারের পিছনে দলের একটি অংশকে দায়ী করেছিলেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও তৃণমূলের তিনটি আসন পরাজয়ের পিছনে দলেরই কিছু নেতার ভূমিকা সামনে এসেছিল। ভোট পরবর্তী পর্যালোচনার পর দল তাঁদের ছেঁটে ফেলে। কুলটি, পাণ্ডবেশ্বর, দুর্গাপুর পশ্চিম, রানিগঞ্জ ও জামুড়িয়ার কিছু নেতার ভূমিকা আতস কাচের তলায় রয়েছে। কারা বিরোধী শিবিরে রণকৌশল লিক করার চেষ্টা করেছেন, সেই তথ্যও হাতে পেয়েছে তৃণমূল। তবে, তাঁদের বেশিরভাগ প্রচেষ্টাই বিফলে গিয়েছে। কারণ, বিজেপির ‘বিভীষণ’ রা জেলার বাইরে গিয়ে তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে তথ্য জুগিয়ে গিয়েছেন। ।