• কেউ দাম দিলে বিয়েবাড়িতেও গান গাইতে পারি: শিলাজিৎ
    এই সময় | ০১ মে ২০২৬
  • আরাত্রিকা দে

    অন্য সময় প্রাইম: এই ছবিটা করতে রাজি হলেন কেন?
    শিলাজিৎ: বেশ অনেকগুলো ফ্যাক্টর কাজ করেছিল। প্রথমত কনসেপ্টটা ভালো লেগেছিল। একেবারেই এই সময়ের উপযোগী একটা গল্প। আরও একটা কারণ হলো, আমি এই সিনেমায় পেমেন্টটা ভালো পেয়েছি। খুব একটা ঢাকা–চাপা দিয়ে কথা আমি বলতে পারি না। আর এ কথা বলতে আমার লজ্জা নেই, ভালো পারিশ্রমিক পেলে কোনও ফিল্ম করতেই আমার আপত্তি নেই। ছবির কাস্টিংটাও ভালো। অঞ্জনদার (দত্ত) সঙ্গে প্রথমবার অভিনয় করতে পারার লোভটা সামলাতে পারিনি।

    অন্য সময় প্রাইম: শুধু পারিশ্রমিকের জন্য কাজ করে পরবর্তীতে আফসোস হয়েছে কখনও ?
    শিলাজিৎ: এমন অনেক কাজ করেছি যা শুধু মাত্র পারিশ্রমিকের জন্যই। কিন্তু তাতেও আমার কখনও আফসোস হয়নি। কেরিয়ারের দশটা বছর তো আমি সেলস–এ কাজ করেছি। অভিনেতা হিসেবে বলুন কিংবা অন্য কোনও অবতারে, যদি আমার সময়টা কেউ দাম দিয়ে কেনেন, তবে বিয়েবাড়িতে গান গাইতেও আমার অসুবিধে নেই।

    অন্য সময় প্রাইম: শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
    শিলাজিৎ: রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, অপরাজিতা আঢ্য, কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ আরও অনেকের সঙ্গেই আমি আগেও কাজ করেছি। তাই খানিকটা রিইউনিয়ন হয়েছিল। কিন্তু অঞ্জন দত্তর সঙ্গে এর আগে কখনও স্ক্রিন শেয়ার করিনি, তাই কিছুটা ভয়ে-ভয়ে ছিলাম। তবে আফসোসটা এখানেই যে, এমন একটা দৃশ্যে অঞ্জনদার সঙ্গে আমার কথোপকথন রয়েছে, সেই সিনের শুটিং নির্ধারিত দিনের একদিন আগে হয়েছিল। তাই আমার প্রিপারেশনটা কিছুটা কম ছিল। আর অঞ্জনদার মতো অভিনেতার সামনে তেমন ভাবে পারফর্ম করতে পারিনি।

    অন্য সময় প্রাইম: বর্তমান প্রজন্মের অভিনেতা-গায়কদের প্রতি আপনার দৃষ্টিভঙ্গিটা ঠিক কেমন?
    শিলাজিৎ: প্রত্যেক প্রজন্মকেই তার ঠিক আগের প্রজন্মের থেকে শুনতে হয়, তারা কতটা অকর্মণ্য। এটা তো যুগ-যুগ ধরে চলে আসছে। আমি ঠিক তেমনটা বিশ্বাস করি না। সমস্ত সময়ের এবং প্রজন্মের কিছু নির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি আছে। ব্যক্তিগত ভাবে বর্তমান প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের আমার দারুণ লাগে। কিছু-কিছু সমস্যার জায়গা তো থাকবেই। আমাদেরও ছিল। ওদের সঙ্গে কিন্তু আমি মন খুলে কথা বলতে পারি।

    অন্য সময় প্রাইম: ছবিতে বাবা ছেলের সমীকরণও দেখা যাবে। বাবা হিসেবে নিজেকে কত নম্বর দেবেন?
    শিলাজিৎ: নম্বর দিতে পারব না। তবে কয়েকটা কথা শেয়ার করতে পারি। আমার ছেলে কখনও কোনও দুষ্টুমি করলে আমি ঘটনাটা তলিয়ে দেখতে চাই। সব সময়ে ওকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাই না। বুঝতে হবে ও যে বয়সে ভুলগুলো করছে সেগুলো নেহাতই ভুল, অন্যায় নয়। একবার ক্লাস ওয়ানে আমার ছেলের গার্জিয়ান কল হয়েছিল। কারণ ক্লাসের মধ্যে চিরকুটে নানা বক্তব্য লিখে চালাচালি করছিল। আমি কাজ থেকে ফিরে দেখি আমার ছেলের মুখ ভার। ওর মা টেনশনে এ–ঘর ও–ঘর করছে। ছেলের কাছে জানতে চাইলাম। ও পুরো বিষয়টা আমাকে বুঝিয়ে বলল। সেদিন বুঝেছিলাম যে, ওর সঙ্গে ওর মতো করে মিশতে পারলে তবেই আমায় নিয়ে ওর কোনও জড়তা তৈরি হবে না।

    অন্য সময় প্রাইম: তারকা সন্তান হওয়া যতটা প্রিভিলেজড ততটাই চাপের। আপনার ছেলে ধী-এর ক্ষেত্রে কোন ফ্যাক্টরটা কাজ করে?
    শিলাজিৎ : আমার পুরো পরিবারটাই তেমন ভাবে উচ্চাকাঙ্ক্ষী নয়। ধী তো এখনও স্ট্রাগলার। এতদিনে যে ক’টা কাজ ও করেছে কোনওটাই আমার রেফারেন্সে নয়। জুনিয়র আর্টিস্টের কাজ ও করেছে। এখন তো এখানে থাকে না। বাংলা গানের প্রতি তেমন ইন্টারেস্ট ওর নেই। তাই যে ধরনের কাজও করতে চায়, সে ক্ষেত্রে আমার খুব একটা সাহায্যের প্রয়োজন আর হবে না। তাই প্রিভিলেজ কিংবা চাপ কোনওটাই বোধহয় তেমন ভাবে নেই।

    অন্য সময় প্রাইম: কিছু দিন আগেই মঞ্চ থেকে এক পুলিশের সঙ্গে আপনাকে বাগবিতন্ডায় জড়াতে দেখা। শিল্পীদের প্রতি বারবার এই ব্যবহার নিয়ে কি বলতে চান?
    শিলাজিৎ: ব্যবহার নিয়ে আমার খুব একটা কমপ্লেন আছে তা নয়। কারণ এখন বোধহয় বিষয়টা অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আগে শিল্পীদের ততটা সম্মান দেওয়া হতো না। এখন আমরা অনেক ক্ষেত্রে সেটা পাই। সব অনুষ্ঠানে তো একই রকমের অভিজ্ঞতা হয় না। প্রচুর ভালো অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়েও গিয়েছি। এমনও দিন গিয়েছে যখন ভিড়ের মধ্যে থেকে যাতে কোনও অসুবিধায় পড়তে না হয় সেটা নিশ্চিত করে পুলিশকর্মীরাই আমাকে আমার গাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন। আবার কখনও মাত্র দু’টো গান করেও আমাকে স্টেজ ছাড়তে হয়েছে। সে দিন ওঁর ব্যবহার আমার মোটেও ভালো লাগেনি। তাই স্টেজ থেকে দাঁড়িয়েই আমার যা বলার বলেছি।
  • Link to this news (এই সময়)