অবশেষে কংগ্রেস নেতা পবন খেরার জন্য স্বস্তির খবর। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার স্ত্রী রিনিকী ভূঁইয়া শর্মার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশের দায়ের করা ফৌজদারি মানহানি ও জালিয়াতির মামলায় আগাম জামিন পেলেন খেরা। শুক্রবার কংগ্রেস নেতার আগাম জামিন মঞ্জুর করেছে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জেকে মহেশ্বরী এবং বিচারপতি এ এস চান্দুরকরের বেঞ্চ। এই মামলায় আগে গুয়াহাটি হাইকোর্ট পবন খেরার আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল। ফলে গ্রেপ্তারের আশঙ্কা তৈরি হয় এবং তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন।
ঘটনার সূত্রপাত, একটি সাংবাদিক সম্মেলন থেকে, যেখানে পবন খেরা অভিযোগ করেন যে মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রীর একাধিক পাসপোর্ট এবং বিদেশে সম্পত্তি রয়েছে। এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও মানহানিকর বলে দাবি করে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। অসম পুলিশের তরফে অভিযোগ তোলা হয় যে, তিনি নাকি বিকৃত বা জাল নথি ব্যবহার করে এই দাবি করেছেন, যার ফলে তাঁর বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও মানহানির মতো গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করা হয়। বিষয়টি দ্রুত রাজনৈতিক রং নেয় এবং শাসক দল ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়।
সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় খেরার আইনজীবীরা যুক্তি দেন যে এই মামলাটি মূলত মানহানির, যেখানে সাধারণত গ্রেপ্তার বা হেফাজতে জেরা প্রয়োজন হয় না। তাঁরা আরও বলেন, খেরা তদন্তে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ভিত্তি দুর্বল। অন্যদিকে, অসম সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, অভিযোগগুলি গুরুতর এবং তদন্তের স্বার্থে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি হতে পারে। আদালত দুই পক্ষের যুক্তি শোনার পর শেষ পর্যন্ত খেরার পক্ষে রায় দেয় এবং তাঁকে আগাম জামিন প্রদান করে।
তবে আদালত কিছু শর্তও আরোপ করেছে। পবন খেরাকে তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে এবং প্রয়োজনে হাজিরা দিতে হবে। এ ছাড়া আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি দেশ ছাড়তে পারবেন না। এই শর্তগুলির মাধ্যমে আদালত একদিকে যেমন তাঁর ব্যক্তিগত স্বাধীনতা রক্ষা করেছে, অন্যদিকে তদন্ত প্রক্রিয়াও যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছে।
এই রায়ের ফলে আপাতত পবন খেরার গ্রেপ্তারির আশঙ্কা দূর হয়েছে এবং তিনি মুক্ত অবস্থায় থেকেই আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে পারবেন। রাজনৈতিক দিক থেকে এই সিদ্ধান্ত কংগ্রেসের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এই মামলাটি ইতিমধ্যেই জাতীয় স্তরে বড় বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল এবং তা নিয়ে রাজনৈতিক চাপও তৈরি হচ্ছিল।