• খাটুনি হলেও পরিচয়ের বৃত্ত বেড়েছে, তৃপ্তি সেখানেই, স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বলছেন BLO-রা
    এই সময় | ০১ মে ২০২৬
  • এই সময়: সাত মাসের দীর্ঘ পরিশ্রমের পরে বৃহস্পতিবার থেকে কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন ওঁরা সবাই। ওঁরা বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও, যাঁরা ‘সার’–এর শুরু থেকে ভোটগ্রহণ পর্যন্ত গোটা পর্বটা সামলেছেন মাঠে–ময়দানে নেমে।

    বিএলও–র দায়িত্ব পালন করেছেন ক্ষেতিয়া স্কুলের শিক্ষক অলীক ঘোষ। তিনি বৃহস্পতিবার বললেন, ‘এটা ঠিকই, সাত মাসের দীর্ঘ কাজের চাপের পরে আজ থেকে স্বস্তি পেয়েছি। কাজের থেকেও মানসিক চাপটা ছিল অনেক বেশি। তবে আমার বুথে অনেকের নাম ডিলিট হয়েছে। এখানেই একটা খারাপ লাগা কাজ করছে।’ তিনি আরও বললেন, ‘কাজটা শুরুর সময়ে যে ভয় বা চাপ লেগেছে, পরবর্তী সময়ে তা কেটে গিয়েছে। অনেক নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয়ও হয়েছে এই কাজের মধ্য দিয়ে। সর্বোপরি সংবাদমাধ্যমেরও অনেক সহযোগিতা পেয়েছি আমরা।’ জনগণনার কাজেও কি তাঁদের ব্যবহার করা হবে, সে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বললেন, ‘এ সব সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখেছি। সরকারি স্তর থেকে এ নিয়ে আলোচনা হয়নি আমাদের সঙ্গে।’

    চাপের কথা শোনা গেল পহলানপুরের বাসিন্দা অনুজ দে–র মুখেও। তিনি বললেন, ‘প্রথম দিকে একটা চাপ তৈরি হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে নিজেকে কাজের উপযোগী করে তুলেছিলাম। এলাকার লোকও সহযোগিতা করেছেন অনেক।’ আর এক বিএলও আইসিডিএস কর্মী সাবিনা বেগম বললেন, ‘আমাকে অনেক কাজ সামলে এটা করতে হয়েছে। এখন ভালো লাগছে।’ তিনিও বললেন, ‘জনগণ‍নার বিষয়ে কিছু বলেনি কেউ। জানি না, সেটাও আমাদের ঘাড়ে আসবে কি না।’ রায়না–২ ব্লকের যশাপুরের শিক্ষক শম্ভুলাল হাঁসদা বললেন, ‘বিরাট মানসিক চাপ থাকলেও শেষ অবধি সবটা ভালোভাবে করতে পেরেছি, এটাই অনেক। কাজ করতে গিয়ে অনেকের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে, এটা বাড়তি পাওয়া বলতে পারেন।’ নির্বাচন কমিশন কালনা বিধানসভা কেন্দ্রের যে দু’জন বিএলও–কে সেরা হিসাবে পুরস্কৃত করেছে, তাঁদের একজন প্রণয় ঘোষ। তিনি পেশায় শিক্ষক।

    প্রণয় বললেন, ‘একটু খাটাখাটি হয়েছে ঠিকই, তবে মানুষের কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ হয়েছে।’ বিশেষ অভিজ্ঞতার কথা জানতে চাওয়ায় বললেন, ‘একসময়ে আমাকে দেখলেই মানুষের ঘুম ছুটে যেত, কার হিয়ারিংয়ের ডাক এল বলে। তবে সমস্যা মিটে যাওয়ায় তাঁরা যখন ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েছেন, তখন খুব আনন্দ পেয়েছি।’ বিএলও–র কাজের চাপে স্কুলে অনুপস্থিতির প্রসঙ্গে প্রণয় জানালেন, তিনি খুব প্রয়োজন ছাড়া স্কুলে অনুপস্থিত থাকেননি। এনুমারেশন ফর্ম বিলির সময়ে পাঁচ দিন, আর সংগ্রহের সময়ে চার–পাঁচ দিন স্কুলে যেতে পারেননি। আর ভোটার স্লিপ বিলির সময়ে দু’দিন স্কুলে যাওয়া হয়নি। জনগণনা নিয়ে প্রণয়ের বক্তব্য, ‘আমরা যেহেতু অলিগলি চিনে গিয়েছি, তাই আমাদের সেই কাজে যুক্ত করা হতে পারে।’ ‘সার’–এ ব্যাপক পরিশ্রমের কথা বলেছেন কাটোয়ার একটি বুথের বিএলও আদিত্য প্রামাণিক, আর এক বিএলও সন্দীপ দাস, আউশগ্রাম–২ ব্লকের রামনগর পঞ্চায়েতের ধনকোড়া গ্রামের বিএলও অর্ঘ্য বিশ্বাস, পাণ্ডুক গ্রামের বিএলও আশুতোষ দত্তরা।

    আদিত্য বলেন, ‘নিজের পেশার পাশাপাশি এই গুরুদায়িত্ব সামলাতে হাড়ভাঙা খাটুনি গিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত সব ভালো মতোই মিটেছে। এ বার একটু বিশ্রাম পাব।’ সন্দীপের কথায়, ‘টানা খাটুনি আর বিরাট একটা মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। এ বার কোথাও একটু ঘুরে আসব ভাবছি।’ অর্ঘ্য বললেন, ‘সংসারে নজর দিতে পারিনি, স্কুলের কাজও করার অবকাশ পাইনি তেমন। ক্লান্ত লাগছে। কয়েক দিন রেস্ট নিয়ে আবার ফিরতে হবে কাজে।’ আশুতোষ বলেছেন, ‘ক্লান্ত লাগছে। কয়েক মাস ধরে আমাদের উপর দিয়ে যা গেল।’

  • Link to this news (এই সময়)