২৬-এর ভোটপর্ব মিটতেই এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের অফিসে হাজিরা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সুজিত বসু। শুক্রবার সকালেই সিজিও কমপ্লেক্সে আসেন তিনি। নির্বাচনের আগে থেকেই দক্ষিণ দমদম পুরসভার নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে দমকলমন্ত্রীকে একাধিক বার তলব করে নোটিস পাঠিয়েছিল ইডি। সেই জল গড়ায় কলকাতা হাইকোর্টেও। অবশেষে কোর্টের হস্তক্ষেপে নির্বাচন না মেটা পর্যন্ত অব্যাহতি পেয়েছিলেন তিনি। তাই ভোটপর্ব শেষের এক দিন পরে ইডি আধিকারিকদের মুখোমুখি হলেন সুজিত বসু।
জানা গিয়েছে, এ দিন সকাল ১০টা ২৬ মিনিটে CGO কমপ্লেক্সে আসেন দমকলমন্ত্রী। গত ২৩ এপ্রিল বিচারপতি কৃষ্ণা রাও ১ মে ইডিতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন তাঁকে। আদালতের নির্দেশ মতোই, এ দিন সময়ের আগেই CGO-তে পৌঁছে যান সুজিত বসু। সঙ্গে ছিলেন তাঁর ছেলে সমুদ্র বসু ও দুই আইনজীবী। তাঁর হাতে বেশ কিছু নথিও ছিল। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ওগুলি আদালতের অর্ডার কপি।
উল্লেখ্য, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তের সময় ২০২২ সালে পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতির বিষয়টি সামনে আসে। অয়ন শীল নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে তল্লাশি করেছিল ইডি। তখনই যে নথি সামনে আসে, সেই সূত্র ধরেই সুজিতের বাড়ি, অফিস এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের সম্পত্তিতে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। এই মামলায় এর আগে সুজিত বসুকে ৩ বার নোটিসও পাঠানো হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, ভোটের ঠিক আগে ২ এপ্রিল থেকে সুজিত বসুকে বার বার সমন দিয়ে তলব করে ইডি। এর পরেই আদালতের দ্বারস্থ হয়ে ভোট পর্যন্ত ইডি তলবে অব্যাহতি চেয়েছিলেন সুজিত। সেই আর্জিতে সম্মতি দেয় আদালত, তবে ভোটের পরেই নিশ্চিত ভাবে হাজিরার নির্দেশও দেয়। এই সময় দেওয়ার কারণ হিসেবে আদালত জানায়, একের পর এক সমন পেয়ে সুজিত বসু না গেলেও তার জবাব দিয়েছেন। এর সঙ্গেই তিনি নির্বাচনে লড়ছেন, তাই তাঁকে এই সময় দেওয়া হচ্ছে।