• আর্থিক চাপে জর্জরিত, আমেরিকায় চাকরি না পেয়ে আত্মহত্যা অন্ধ্রের যুবকের
    এই সময় | ০১ মে ২০২৬
  • শিকাগোর ডি’পল ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স করেছিলেন। কিন্তু তার পরেও চাকরি মেলেনি বলে অভিযোগ। এ দিকে দেনাও বাড়ছিল। শেষে মঙ্গলবার শিকাগোর বাড়ি থেকে উদ্ধার হলো অন্ধ্রের যুবক ইরাগনবয়িনা চান্দু (২৬)-র মৃতদেহ। প্রাথমিক তদন্তে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলেই অনুমান পুলিশের। চান্দুর দেহ ফেরাতে চাঁদা তুলছেন প্রবাসী ভারতীয়রা। সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের মন্ত্রী নারা লোকেশও।

    শিকাগো পুলিশ ও প্রবাসী ভারতীয়দের সূত্রে জানা গিয়েছে, চান্দুর বাড়ি অন্ধ্রপ্রদেশের কুর্নুলে। তাঁর বাবা ইরাগানাবোয়িনা শ্রীনিবাসুলু পেশায় নিরাপত্তারক্ষী। অনেক টাকা ধার করে ছেলেকে আমেরিকায় পড়তে পাঠিয়েছিলেন। চান্দুও মেধাবী ছাত্র ছিলেন। শিকাগোর ডি’পল ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স করেছিলেন। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও চাকরি জোটাতে পারছিলেন না। আর্থিক ভাবে বাবার উপরেই নির্ভরশীল থেকে গিয়েছিলেন পুত্র। এতেই মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তাঁর পরিচিতরা।

    এর পরেই মঙ্গলবার রাতে বাড়ি থেকে চান্দুর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। চাকরি না পাওয়ার হতাশা থেকেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন দাবি করা হয়েছে। তবে কে প্রথম তাঁকে দেখল, কারা পুলিশে খবর দিল, এই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি। এই পরিস্থিতিতে চান্দুর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রবাসী ভারতীয়রা। তাঁরা চাঁদা তুলে ১ লক্ষ ২০ হাজার ডলার জোগাড়ের চেষ্টা করছেন, যাতে তাঁর বাবার কাছে চান্দুর দেহ পাঠানোর খরচটা উঠে আসে।

    চান্দুর জন্য তহবিল সংগ্রহের পেজে লেখা হয়েছে, ‘অনেক স্বপ্ন নিয়ে শিকাগোতে এসেছিলেন চান্দু। সব সময়ে বন্ধু ও ভাইদের পাশে থাকতেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জীবনের চ্যালেঞ্জগুলো সামলাতে পারেননি। তাঁর স্বপ্ন থেমে গেল। চান্দুর পরিবারের কাছে এই ক্ষতি অপূরনীয়।’

    এই নিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশের মন্ত্রী নারা লোকেশের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়া ইউজ়াররা। চান্দুর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন তিনি। দ্রুত এবং নির্বিঘ্নে মৃতদেহ দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় বেসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী রাম মোহন নাইডুও। তিনি বলেন, ‘এই কঠিন সময়ে আমরা সব রকম ভাবে চান্দুর পরিবারের পাশে আছি।’

  • Link to this news (এই সময়)