এসি তো দূর, মাথার উপর সিলিং ফ্যানটাও জোরে ঘুরলে শিরশিরে ঠান্ডা লাগছে।আর মোটরবাইকে চালালে তো একেবারে শীতকালের অনুভূতি। বৈশাখের প্যাচপ্যাচে ঘামে নাজেহাল হওয়ার বদলে এমন ‘কুল’ আবহাওয়ায় মাথায়-মনে ঝিলমিল লেগে যাওয়ার জোগাড়! তপ্ত গরমে ঝলসানোর বদলে বৈশাখে কী করে এমন স্বস্তির ওয়েদার, তাই ‘কাল্টিভেট’ করতে ব্যস্ত কলকাতাবাসী। নির্বাচনী রেজ়াল্টের ভবিষ্যদ্বাণী ছেড়ে তাই এখন চায়ের আড্ডার ‘হট ফেভারিট’ শুক্রবারের টেম্পারেচার। এমন ‘শীতল’ বৈশাখ কি আগে দেখেছে কলকাতা?
আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পয়লা মে অর্থাৎ আজ ১৮ বৈশাখ, কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৯.৮ ডিগ্রিতে। এ ছাড়া, দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৮.২ ডিগ্রি, যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় সাড়ে ৭ ডিগ্রি কম। হাওয়া অফিসের নথি ঘেঁটে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই প্রথম নয়, এর আগেও অন্তত দু’বার এমন ‘ঠান্ডা ঠান্ডা, কুল কুল’ বৈশাখের আমেজ পেয়েছে তিলোত্তমা। তথ্য অনুযায়ী, ২০০৩ সালের ৩ মে অর্থাৎ বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১৪১০ সালের ১৮ বৈশাখ, কলকাতার তাপমাত্রা নেমে গিয়ে দাঁড়ায় ১৭.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা স্বাভাবিকের থেকে প্রায় ৯ ডিগ্রি কম। এ ছাড়া ১৯৮৭ সালের ৩ মে-ও এমন হাওয়া বয়েছিল গঙ্গা পারে। সে বার শহরের তাপমাত্রা কমে হয়েছিল ১৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস অর্থাৎ এ দিনের তাপমাত্রার সমান।
গত দু’দিনে বৈশাখের চাঁদি ফাটা রোদ আর জ্বালাপোড়া গরমের ‘দাদাগিরি’ ঘুচিয়ে দিয়েছে রেকর্ড বৃষ্টি। গত বুধবার ভোটপর্ব মিটতেই অঝোর ধারায় বৃষ্টি শুরু হয় কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে। কয়েক ঘণ্টায় ঝেঁপে বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার দাপটে অল্প সময়ে তাপমাত্রা নেমেছিল ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২.২ ডিগ্রি। কয়েক ঘণ্টা পরেই তা পৌঁছয় ২২-এর ঘরে। শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা মঙ্গলবারের তুলনায় একধাক্কায় ৭ ডিগ্রিরও বেশি নেমে ২০.৪ ডিগ্রিতে পৌঁছয়। সেই পারদ পতন অব্যাহত ছিল বৃহস্পতিতেও। সন্ধে নামতেই ঝেঁপে বৃষ্টি শুরু হয় শহরে। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার ৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে কলকাতায়। সঙ্গে ছিল ঘণ্টায় ৫৫ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া। ফলে আরও ২ ডিগ্রি নামে তাপমাত্রা।
তবে বর্ষাকাল না হলেও এমন বৃষ্টির পিছনে জলবায়ু বিজ্ঞানীরা 'স্কোয়াল লাইন'-এর কেরামতি দেখছেন। তীব্র বজ্রপাত, বিদ্যুৎ চমক এবং দমকা হাওয়ার উপস্থিতিই এর বৈশিষ্ট্য। এর জেরে সাময়িক ভাবে তাপমাত্রা কমেছে শহরের।
তথ্য সহায়তা- কুবলয় বন্দ্যোপাধ্যায়