হিমন্তের 'রাতের অন্ধকারে পুশব্যাক' মন্তব্য, ঢাকায় ভারতের হাই কমিশনারকে তলব
আজ তক | ০১ মে ২০২৬
ভারত-বাংলাদেশে তিক্ততা কাটিয়ে যখন সম্পর্ক খানিকটা নরম হচ্ছে, সেই সময় অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার মন্তব্যে তুমুল বিতর্ক। অবৈধ বাংলাদেশিদের রাতের অন্ধকারে পুশব্যাক মন্তব্যে ভারতকে কূটনৈতিক জটিলতায় ফেলেছে। বৃহস্পতিবার, হিমন্তের 'অবমাননাকর' মন্তব্যের জেরে ঢাকায় নিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব করে প্রতিবাদ জানিয়েছে।
এই কূটনৈতিক বিবাদের কারণ কী? এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিস্ফোরক মন্তব্য করে হিমন্ত বিতর্কের জন্ম দেন। অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে হিমন্ত দাবি করেন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অসমের কর্তৃপক্ষ সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটক করছে। পরবর্তীতে তাদের আইনি অস্পষ্টতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে পাঠিয়ে দিচ্ছে। খোদ মুখ্যমন্ত্রী নিজেই এই প্রক্রিয়াটিকে আইনিভাবে ‘অস্পষ্ট’ বলে স্বীকার করেছেন।
হিমন্তের মতে, মূল বাধাটি ছিল বাংলাদেশি নাগরিকদের স্বীকৃতি দিতে ঢাকার অস্বীকৃতি। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে, যা অপরাধী ও পলাতকদের হস্তান্তরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
তিনি বলেন, "যদি তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরত পাঠাতে চাই, তাহলে বিদেশ মন্ত্রকের কাছে যেতে হবে। এরপর বিদেশমন্ত্রক বাংলাদেশকে বিস্তারিত তথ্য পাঠাবে। তখন তারা কাদেরকে ফেরত নেবে, সেই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি বাংলাদেশের ওপর নির্ভর করবে।" হিমন্ত দাবি করেন, এর পরিবর্তে, যেসব জায়গায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) উপস্থিত নেই, সেখানে ‘রাতের অন্ধকারে’ লোকজনকে ‘ঠেলে দেওয়া’ হচ্ছে। অসমের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারিভাবে ১,৪০০ বাংলাদেশিকে ‘পুশব্যাক’ হলেও, প্রকৃত সংখ্যাটা হাজার হতে পারে।
হিমন্ত আরও বলেন, "গত বছর সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট যদি মনে করেন কোনও ব্যক্তি ভারতীয় নন, তাহলে উচ্ছেদের আদেশ জারি করা যেতে পারে। তবে, ওই আদেশে নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি যে উচ্ছেদ কীভাবে কার্যকর করা হবে।"
এরপর তিনি অবৈধ বাংলাদেশিদের কীভাবে 'পুশব্যাক' সেই প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করেন।
তিনি আরও বলেন, "সীমান্তের কাছে একটি সুবিধাজনক জায়গায় নিয়ে যাই এবং আক্ষরিক অর্থে সীমান্ত পার করে দিই। এখন অসমে এমন একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে যে বেশ কিছু অবৈধ বাংলাদেশি নিজেরাই ফিরে যেতে শুরু করেছে।"
ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে
এমন এক সময়ে শর্মা মন্তব্য দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে হচ্ছে, যখন সম্পর্কের বরফ গলার লক্ষণ দেখা যাচ্ছিল। ২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণকারী মহম্মদ ইউনূসের আমলে সম্পর্ক সর্বকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছিল।
দি ঢাকা ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ভারপ্রাপ্ত ভারতীয় হাইকমিশনার পবন বাধেকে তলব করে শর্মার মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে। সূত্র জানায়, বাংলাদেশ বাধেকে জানিয়েছে যে এই মন্তব্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য "অবমাননাকর"।
তবে ভারত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি
সম্প্রতি প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে সম্পর্ক উন্নতির দিকে রয়েছে। গত মাসে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান তাঁর ভারতীয় প্রতিপক্ষ এস জয়শঙ্কর এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়লাভ করার পর এটিই ছিল বাংলাদেশের প্রথম তদবির।
তাছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মধ্যেও ভারত বাংলাদেশে জ্বালানি, বিশেষ করে ডিজেলের, একটি প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে থেকেছে।