• সকাল থেকেই স্ট্রংরুমের CCTV-তে চোখ কুণালের, বলছেন, 'আজও মুভমেন্ট হতে পারে'
    আজ তক | ০১ মে ২০২৬
  •  নির্বাচনের ফল ঘোষণার প্রাক্কালে কলকাতার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রংরুমকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল বৃহস্পতিবার। স্ট্রংরুমের ভেতরে ‘সন্দেহজনক গতিবিধি’ এবং ইভিএম টেম্পারিংয়ের আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রের মূল গেটের বাইরে বিক্ষোভ অবস্থানে বসেন উত্তর কলকাতার দুই হেভিওয়েট তৃণমূল প্রার্থী— কুণাল ঘোষ এবং শশী পাঁজা। যদিও শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের আধিকারিক ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে কুণাল ঘোষ-শশী পাঁজারা এলাকা ছাড়েন। তবে শুক্রবার সকালে ফের ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রং রুমে পৌঁছে গেলেন কুণাল ঘোষ। খুঁটিয়ে দেখেন সিসিটিভি ফুটেজও। 

    অভিযোগ উঠেছে, বৃহস্পতিবার প্রার্থী এবং এজেন্টের অনুপস্থিতিতে খোলা হয়েছিল স্ট্রং রুম। সেখানেই আপত্তি জানিয়েছেন প্রার্থী কুণাল ঘোষ।  বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন কুণাল ঘোষ ও শশী পাঁজা। সমস্যা আজও হতে পারে, একথা মাথায় রেখেই শুক্রবারও মনিটরিং করছেন বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী। কুণাল ঘোষ বলেন, 'আজ বিকেলে ফের মুভমেন্ট হতে পারে, পোস্টাল ব্যালেট আসবে, আমাদের প্রার্থী ও এজেন্টরদের ইনফর্ম করা হয়েছে, সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।' কুণাল আরও বলেন, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই বাংলায় ক্ষমতায় আসছেন।'

    প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার শ্যামপুকুর ও বেলেঘাটা কেন্দ্রের দুই তৃণমূল প্রার্থী শশী পাঁজা এবং কুণাল ঘোষ অভিযোগ তোলেন, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতিতেই বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা ইভিএম খোলার চেষ্টা করছেন। নির্বাচনের ফল ঘোষণার আগেই বড়সড় কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। কুণাল ঘোষ সরাসরি নির্বাচন কমিশনের নজরদারি ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি দাবি করেন, লাইভ স্ট্রিমিং ও সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা যাচ্ছে যে স্ট্রং রুমের ভেতরে কিছু মানুষ কাজ করছেন, অথচ সেখানে তৃণমূলের কোনও প্রতিনিধি নেই। এমনকি তাঁদের ভেতরে ঢুকতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। তাঁর প্রশ্ন, যাদের পরিচয় স্পষ্ট নয়, তাঁরা কার অনুমতিতে সেখানে প্রবেশাধিকার পেলেন এবং কেন তাঁদের উপস্থিতিতে কাজ চলছে? তাঁরা আমাদের অন্য প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে বলছেন। আমরা কেন অন্য প্রার্থীদের দায়িত্ব নেব? যদিও কমিশনের তরফে অভিযোগ অস্বীকার করে জানানো হয়েছে, আগেই ইমেলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিধানসভাগুলির প্রার্থীদের পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত কাজের বিষয়ে অবহিত করা হয়েছিল।

    প্রসঙ্গত, ভিডিওবার্তায় বৃহস্পতিবার বিকেলেই ইভিএম পাহারা দেওয়ার কথা বলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কারচুপির আশঙ্কাও প্রকাশ করেছিলেন। স্ট্রংরুমে কড়া নজরদারির নির্দেশও দিয়েছিলেন। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বৃষ্টি মাথায় নিয়ে শাখাওয়াত মেমোরিয়ালে ভবানীপুরের স্ট্রংরুমে তৃণমূলনেত্রী নিজেই হাজির হন। গভীর রাতেও সেখানে ছিলেন ভবানীপুরের তৃণমূল প্রার্থী। ভিডিও বার্তায় মমতা স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, ইভিএম নিয়ে কারচুপির আশঙ্কা আছে এবং তাই স্ট্রংরুমে কড়া পাহারার প্রয়োজন। কর্মীদেরও স্ট্রংরুমের উপরে নজর রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
  • Link to this news (আজ তক)