বাংলা-সহ চার রাজ্য ও এক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ভোটপর্ব মিটতেই ফের ইন্ডিয়া জোটের শরিকদের একজোট করার চেষ্টা শুরু করবে কংগ্রেস। সূত্রের খবর, ভোটগণনার পরই শরিক দলগুলিকে নিয়ে বৈঠকে বসতে চায় হাত শিবির। যদিও সেই বৈঠকে ঠিক কারা যোগ দেবেন, সেটা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
এক সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, ভোটপর্ব পুরোপুরি মিটলেই দিল্লিতে জোটের বৈঠক ডাকতে পারে কংগ্রেস। সেই বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হবে সব শরিকদলকেই। তবে একেবারে শীর্ষ নেতারা থাকবেন নাকি প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করা হবে সেটা স্পষ্ট নয়। ওই বৈঠকের মূল লক্ষ্য, পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনে ইন্ডিয়া জোটের শরিকদের পারফরম্যান্স কেমন হল, কোথায় কোথায় বিজেপিকে হারানো গেল, সেসব নিয়ে আলোচনা।
বস্তুত এ বার যে পাঁচ রাজ্যে নির্বাচন হল সেগুলি ইন্ডিয়া জোটের ঐক্যের জন্য বড় পরীক্ষা ছিল। কারণ কেরলে এবার মূল লড়াই ছিল এই জোটের দুই গুরুত্বপূর্ণ শরিক বাম এবং কংগ্রেসের মধ্যে। আবার বাংলায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াই করেছে কংগ্রেস। রাজ্যে ২৯৪ আসনে কংগ্রেস সরাসরি লড়াই করা এবং যেভাবে রাহুল গান্ধী নিজে রাজ্যে এসে তৃণমূল নেত্রীকে বারবার আক্রমণ শানিয়ে গিয়েছেন, সেটা নিয়ে ইন্ডিয়া জোটের অন্দরে অসন্তোষ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তাছাড়া ফলপ্রকাশের পর জোটের শরিকদলগুলির অন্দরের সমীকরণ পুরোপুরি বদলে যেতে পারে। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল বা সিপিএমের কেউ আদৌ কংগ্রেসের বৈঠকে যাবেন কিনা, বা গেলেও তাঁদের অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
যদিও কংগ্রেস চাইছে, বিভিন্ন রাজ্যের স্থানীয় রাজনীতি ভুলে এবার জাতীয় রাজনীতিতে মনোনিবেশ করতে। পাঁচ রাজ্যের ভোটের ফলাফলের পর দলের শক্তি অনেকটাই বাড়বে বলে মনে করছে হাত শিবির। কংগ্রেস আশাবাদী কেরলে তারা সরকার গড়বে। তামিলনাড়ুতে কংগ্রেস জোট ক্ষমতায় ফিরবে। বাংলাতেও শেষপর্যন্ত তৃণমূল জিতবে বলেই বিশ্বাস হাত শিবিরের। সেই সঙ্গে অসম এবং পুদুচেরিতেও ভালো ফলের ব্যাপারে আশাবাদী হাত শিবির। সদ্য সংসদে আসন পুনর্বিন্যাস রুখতে যে বেনজির বিরোধী ঐক্য দেখা গিয়েছিল, সেটাই আগামী দিনে বজায় রাখতে চায় কংগ্রেস।