• নজর গণনাকেন্দ্রে! তরুণ ও অভিজ্ঞের মিশেলে ‘দল’ গড়ছে বিজেপি
    প্রতিদিন | ০১ মে ২০২৬
  • গণনাকেন্দ্রে এজেন্ট পাঠাতে তরুণ মুখ ও অভিজ্ঞতার দুইয়ের উপরই ভরসা রাখছে বিজেপি। প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং তরুণ, এরকম কর্মীদেরই পাঠানো এরকম হবে গণনাকেন্দ্রে। মোদ্দা কথা, গণনাকেন্দ্রে মাটি কামড়ে পড়ে থাকার জন্য বার্তা দিল বিজেপি নেতৃত্ব।

    বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব বৃহস্পতিবার গণনা নিয়ে ২৯৪টি আসনের সমস্ত প্রার্থীদের নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠকও করলেন। পাশাপাশি রাজ্য পদাধিকারীদের নিয়েও একটি বৈঠক সল্টলেক পার্টি অফিসে করেছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। আজ ও কাল বুথ কর্মীদের পাঠ দেবে বিজেপি। বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে।

    চূড়ান্ত ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ভোট গণনাকেন্দ্র না ছাড়ার জন্য দলের কাউন্টিং এজেন্টদের নির্দেশ দিয়েছে বঙ্গ বিজেপি। পাশাপাশি ৭৭টি গণনাকেন্দ্র দেখার জন্য ৭৭ জন রাজ্য নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হল বিজেপির তরফে। বৃহস্পতিবার সল্টলেক পার্টি অফিসে রাজ্য বিজেপির একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ছিলেন রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতা সুনীল বনসল-সহ রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, যুগ্ম সম্পাদক (সংগঠন) সতীশ ধন্দ, সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) অমিতাভ চক্রবর্তী। গণনার দিন একগুচ্ছ নির্দেশ সেই বৈঠকে দেওয়া হয়েছে রাজ্য নেতৃত্বকে।

    প্রসঙ্গত, রাজ্যে ভোট গণনাকেন্দ্রের সংখ্যা ১০৮ থেকে কমিয়ে ৮৭ করা হয়েছিল। এবার গণনাকেন্দ্রের সংখ্যা আরও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ২৯৪টি বিধানসভা আসনের ভোট গণনা হবে ৭৭টি কেন্দ্রে। আর এদিন দলীয় বৈঠকে বিজেপি সেই ৭৭টি গণনাকেন্দ্র ধরে ধরে একজন করে রাজ্য নেতাকে মনিটরিং করার দায়িত্ব দিয়েছে। এদিকে, গণনাকেন্দ্রে ভূমিকা কী হবে তা প্রশিক্ষণ দিতে রাজ্যের তরফে ৫ জন আসবেন। তাঁরা জেলায় প্রশিক্ষণ দেবেন।

    কাল শনিবারের মধ্যেই সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ করে নিতে চাইছে গেরুয়া শিবির। রাজ্য বিজেপির তরফে নির্দেশ যাচ্ছে, দলের সব প্রার্থী, গণনা ক্ষেত্রের কর্মী ও বিশেষ করে কাউন্টিং এজেন্টদের গণনা শেষ হলে, প্রার্থীকে জিতিয়ে সার্টিফিকেট হাতে নিয়ে তারপর গণনা কেন্দ্র ছাড়তে হবে। বাইরের সুরক্ষা ব্যবস্থা রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দেখবেন। এজেন্টদের মনোবল বাড়াতে গণনাকেন্দ্রের বাইরে থাকা কর্মীদের ময়দান না ছাড়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

    আজ, শুক্রবার শিলিগুড়ি, মালদহ-সহ একাধিক জায়গায় দলীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে গণনার দিন বিশেষ স্ট্র্যাটেজি নিয়ে। দলের বিধায়ক-সাংসদদের নিয়েও বৈঠক করবে বিজেপি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের বার্তা, “গণনাকেন্দ্রে শেষ পর্যন্ত থাকতে হবে। শেষ পর্যন্ত লড়াই করুন। প্রার্থীকে জিতিয়ে আনতে হবে।”

    এদিকে, এগজিট পোল নিয়ে উচ্ছ্বসিত না হওয়ার জন্য নিজের দলকে পরামর্শ দিয়েছেন প্রবীণ বিজেপি নেতা তথাগত রায়। ফলপ্রকাশ পর্যন্ত ধৈর্য রাখা নিয়ে নিজের দলকে সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার ফেসবুক পোস্ট করে তথাগত জানান, ‘পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি! এক্সিট পোল নিয়ে আনন্দিত হোন, কিন্তু উচ্ছ্বসিত হবেন না।’
  • Link to this news (প্রতিদিন)