• গ্যাসের দামবৃদ্ধিতে বন্ধ হওয়ার মুখে মাছ-ভাতের বহু হোটেল, বাড়তে পারে খাবারের দামও
    এই সময় | ০১ মে ২০২৬
  • পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটপর্ব মিটতেই দেশে বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম ৯৯৪ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে কেন্দ্র। যার ফলে শহরে ১৯ কেজির সিলিন্ডারের দাম এখন ৩২০২ টাকা। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত জানুয়ারি মাস থেকে ধারাবাহিক ভাবে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে। এ বার এক ধাক্কায় দাম এতটা বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই বিপাকে পড়েছেন হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিকেরা। আশঙ্কা তৈরি হয়েছে খাবারের দামবৃদ্ধি নিয়েও।

    হাওড়া-হুগলি জুড়ে অজস্র ছোট-বড় অস্থায়ী পাইস হোটেল রয়েছে। মাছ-ভাত, রুটি-তরকারি থেকে বিরিয়ানি, সবই পাওয়া যায় সেখানে। বহু নিত্যযাত্রীর প্রতিদিনের খাওয়াদাওয়ার জায়গা এই পাইস হোটেল। সেই সঙ্গে পথচলতি মানুষের জন্য় অত্য়ন্ত প্রয়োজনীয় এই পাইস হোটেলগুলি বহু মানুষের রুজিরুটিরও জায়গা। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের জোগান নিয়ন্ত্রিত হতেই মাথায় হাত পড়েছিল এই হোটেল ব্যবসায়ীদের। এ বার সিলিন্ডারের দাম এতটা বেড়ে যাওয়ায় শ্রীরামপুর স্টেশনে কাছে একটি পুরনো পাইস হোটেলের মালিক বলেন, ‘আগে যে দাম ছিল, তার দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে। কী ভাবে দোকান চালাব, সেটাই বুঝতে পারছি না। একটা হোটেল চালাতে অনেক লেবার (কর্মী) লাগে। তাঁদেরই বা কী ভাবে পয়সা দেব!

    আবার খাবারের দাম বাড়লে ক্রেতার সংখ্যাও কমে যাবে, এই আশঙ্কাও রয়েছে হোটেল মালিকদের। খাদিনা মোড়ের একটি রেস্তরাঁর মালিক বলেন, ‘এখন তো রেস্তরাঁ চালানোই দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। রেস্তরাঁর রান্না কয়লা বা গুলের উনুনে করা যায় না। তাই গ্যাসের দিকেই তাকিয়ে থাকতে হয় আমাদের। কিন্তু এত দাম দিয়ে কী করে গ্যাস কিনব? খাবারের দাম বাড়ালে তো ক্রেতাও কমে যাবে। দোকান বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় নেই।’

    গঙ্গাতীরের ফুটপাত জুড়ে শুধু মাছ-ভাতের হোটেল নয়, গজিয়ে উঠেছে চপ-মুড়ি, কচুরি, দোসার দোকানও। প্রতিটি দোকানেই রান্না হয় বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারে। এখন প্রবল সমস্যায় পড়েছেন এই সব দোকানের মালিকেরা। তাঁদের বক্তব্য, বর্ধিত দামে বাণিজ্যিক সিলিন্ডার কিনে এই ছোট ব্যবসা চালানো সম্ভব নয়। আর বর্তমানে কয়লা বা কেরোসিনের যা দাম যে হারে বেড়েছে, তাতে দোকান বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া কোনও পথ পাচ্ছেন না তাঁরা।

    চন্দননগরের চপ-মুড়ির একটি দোকানের মালিক বললেন, ‘আমার একটি সিলিন্ডার আছে। এটা শেষ হলে আর গ্যাসে রান্না করব না। আজই একটি কেরোসিন স্টোভ কিনে আনব ভাবছি। কিন্তু কেরোসিনেরও যে ভাবে কালোবাজারি হচ্ছে, ক’দিন চালাতে পারব, জানি না।’

  • Link to this news (এই সময়)