একাধিক পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কে লিপ্ত স্ত্রী। জীবনসঙ্গিনীর এই একাধিক বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে মারাত্মক মানসিক চাপে চরম পদক্ষেপ এক যুবকের। হায়দরাবাদের হুসেন সাগরে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হলেন ৩৬ বয়সি এস সীতারাম রেড্ডি। পেশায় তিনি ছিলেন একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। মৃত যুবকের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে স্ত্রী রেণুকা এবং তাঁর প্রেমিক এম রমানা রেড্ডিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, আত্মহত্যার আগে একটি ১৯ পাতার নোট লিখেছিলেন এস সীতারাম রেড্ডি। তারই ছত্রে ছত্রে স্ত্রীয়ের বিরুদ্ধে ব্যাভিচারের অভিযোগ এনেছেন তিনি। জানা গিয়েছে, ২০১৮ সালে রেণুকার সঙ্গে বিয়ে হয় সীতারামের। তাঁদের পাঁচ ও সাত বছরের দুই সন্তানও রয়েছে। সীতারাম তাঁর সুইসাইড নোটে দাবি করেছেন যে তাঁর স্ত্রী রেণুকা গত দেড় বছর ধরে অন্তত তিনজন পুরুষের সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত ছিলেন। তিনি চাকরি সূত্রে বাড়ির বাইরে গেলেই, অন্য পুরুষরা আনাগোনা করতেন বাড়িতে। এমনকী অভিযোগ, স্ত্রী রেণুকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিয়োও করে রেখেছিলেন বর্তমান ‘প্রেমিক’ ব্যবসায়ী রমানা রেড্ডি। সেই ভিডিয়ো পরবর্তীকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে এই সম্পর্কের কথা জানাজানি হয়ে যায়। ভিডিয়োগুলি চোখে পড়ে সীতারামেরও এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। তুঙ্গে ওঠে দাম্পত্য কলহও।
পরিবারের অভিযোগ, এই ঘটনাগুলি মিলিয়ে সীতারামের ওপর ক্রমশ মানসিক চাপ বাড়ছিল। তিনি নোটে লিখেছেন, ক্রমাগত অপমান, অবিশ্বাস এবং সম্পর্কের টানাপোড়েন তাঁকে ভেতর থেকে ভেঙে দেয়। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার কোনও পথ তিনি খুঁজে পাচ্ছিলেন না বলেই শেষ পর্যন্ত চরম সিদ্ধান্ত নেন।
ঘটনার দিন ওই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরেননি। পরে তাঁর দেহ উদ্ধার হয় হুসেন সাগর লেক থেকে। এই ঘটনার পর মৃতের পরিবার সরাসরি তাঁর স্ত্রী এবং ওই ব্যবসায়ীকে দায়ী করে অভিযোগ দায়ের করে। তাঁদের বক্তব্য, মানসিক নির্যাতন এবং চাপের কারণেই সীতারাম এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।
পুলিশ এর পরেই মৃতের স্ত্রী এবং তাঁর কথিত প্রেমিককে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীরা দম্পতির মোবাইল ফোন, ব্যক্তিগত চ্যাট এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ খতিয়ে দেখছেন, যাতে ঘটনার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হয়।