বয়স মাত্র সাত। তবে সাঁতারু হিসেবে অনেক প্রাপ্তবয়স্কদেরও ঈর্ষার কারণ হয়ে উঠতে পারে ইশাঙ্ক সিং। এই বয়সেই পক প্রণালী সাঁতরে পার করে রেকর্ড গড়ল সে। এই অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য ইশাঙ্ককে “Youngest and Fastest Palk Strait Swimmer” শিরোপা দিয়েছে ইউনিভার্সাল রেকর্ডস ফোরাম।
ঝাড়খণ্ডের রাঁচির বাসিন্দা ইশাঙ্ক। ছোট থেকেই ‘জলের পোকা’ সে। কঠোর অনুশীলন, শৃঙ্খলা এবং মানসিক দৃঢ়তার জোরেই সাঁতারে নজির তৈরির পথে এগিয়ে চলেছে এই কিশোর। রাঁচির ধুরওয়া ড্যামে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা করে অনুশীলন করত ঈশাঙ্ক। মতি নন্দীর লেখা জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস ও ১৯৮৬ সালের জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত চলচ্চিত্র 'কোনি' সিনেমায় কোনির প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহের (ক্ষিদ্দা) কথা মনে আছে অনেকেরই। ইশাঙ্কের প্রশিক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন সেরকমই দুই কোচ অমন কুমার জয়সওয়াল ও বজরং কুমার। গত ৩০ এপ্রিল প্রায় ২৯ কিলোমিটার দীর্ঘ জলপথ সাঁতরে শ্রীলঙ্কার তালাইমান্নার থেকে ভারতের ধনুষ্কোডি পৌঁছয় সে। পুরো যাত্রাপথ সম্পূর্ণ করতে তার সময় লাগে ৯ ঘণ্টা ৫০ মিনিট।
তার এই কৃতিত্বের প্রশংসা করেছেন ইশাঙ্ক স্কুলের শিক্ষকরাও। বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ জানান, ইশাঙ্ক সিংয়ের এই কৃতিত্ব শুধু তার বিদ্যালয় নয়, রাঁচি শহর এবং সমগ্র দেশের জন্য গর্বের বিষয়। ‘DAV Shyamali’ স্কুলের এক শিক্ষক একটি সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘সমুদ্রের প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলা করে এত অল্প বয়সে বিশ্ব রেকর্ড গড়া তাঁর অসাধারণ সাহস, শৃঙ্খলা ও দৃঢ় সংকল্পেরই প্রতিফলন।’
ইশাঙ্ক সিংয়ের প্রশংসা করেছেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, ‘ইশাঙ্কের সাফল্য হলো শৃঙ্খলা এবং নিজের লক্ষ্যের প্রতি অবিচল নিষ্ঠার এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত। সে কেবল ঝাড়খণ্ডেরই নয়, বরং সমগ্র দেশের জন্য গৌরব নিয়ে এসেছে।’