মুখ্যমন্ত্রীর প্রবল বাধা এবং চূড়ান্ত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও মাথা ঠান্ডা রেখে কর্তব্য পালন। আর সেই ‘বিরল সাহসিকতা’ (Rare Professional Courage)-র জন্যই শুক্রবার, এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট বা ইডি-র ৭০তম প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে বিশেষ পুরস্কারে সম্মানিত হলেন সংস্থার অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর প্রশান্ত চান্ডিলা। দিল্লিতে ইডি-র সদর দপ্তরে এই সম্মান প্রদান করা হয়।
চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি কয়লা ও অর্থ পাচার মামলার তদন্তে তৃণমূলের রাজনৈতিক উপদেষ্টা সংস্থা, আই-প্যাকের (I-PAC) সল্টলেকের অফিস এবং লাউডন স্ট্রিটে অবস্থিত সংস্থার কর্ণধার, প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালায় ইডি। সকাল ৬:২০ নাগাদ শুরু হওয়া সেই তল্লাশি অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন প্রশান্ত।
ইডি-র অভিযোগ, তল্লাশি চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে উপস্থিত হন এবং বাধা সৃষ্টি করেন। মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে তল্লাশি বিঘ্নিত হয় এবং সংস্থার আধিকারিকদের জোর করে আটকে রাখা হয়েছিল।
এত চাপের মধ্যেও দমে যাননি প্রশান্ত চান্ডিলা। উপস্থিত বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে তিনি একটি নিখুঁত ‘পঞ্চনামা’ বা ‘সিজার মেমো’ তৈরি করেন। সংস্থা সূত্রে খবর, চান্ডিলার তৈরি করা সেই নথিই পরবর্তী সময়ে সুপ্রিম কোর্টে ইডি-র অন্যতম বড় হাতিয়ার হয়ে উঠেছিল।
যার ভিত্তিতে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও পুলিশকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে সংস্থা। যদিও তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয়েছিল, ইডি আসলে তৃণমূলের নির্বাচনী কৌশল চুরির চেষ্টা করছিল। তবে চান্ডিলার সেই অকুতোভয় ভূমিকার জন্যই আজ তাঁর এই বিশেষ স্বীকৃতিলাভ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।