বিধানসভা ভোটের ফলাফল কী হবে তা নিয়ে জল্পনা রয়েছে। প্রথম দফায় ভোট হয়েছে উত্তরবঙ্গে। আগামী ৪ তারিখ ফলগণনা। এবারেও কি উত্তরবঙ্গে বিজেপি বেশিরভাগ আসন জয় করবে? নাকি শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবার ভালো ফল করবে? সেই চর্চা চলছে। ইতিমধ্যেই আবির বিক্রি শুরু হয়ে গিয়েছে। কিন্তু কোন রঙের আবির এবার বেশি বিক্রি হচ্ছে? জানা গিয়েছে, উত্তরে গেরুয়া আবির চাহিদায় টেক্কা দিতে শুরু করেছে সবুজ আবিরকে।
অন্তত শিলিগুড়ির আবির উৎপাদক সংস্থার বিক্রির বহর সেই ছবি তুলে ধরেছে। শিলিগুড়ি থেকে আবির যাচ্ছে উত্তরের পাহাড়-সমতলের বিভিন্ন প্রান্তে। আবির উৎপাদক সংস্থার কর্ণধার সুদীপ্ত ভৌমিক জানান, হোলির পরে সাধারণত আবিরের চাহিদা থাকে না। কিন্তু এবার ভোটের ফলাফলের দিন এগিয়ে আসতে হঠাৎ আবিরের চাহিদা বেড়ে গিয়েছে। উৎপাদন করেও চাহিদা সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, “এবার গেরুয়া ও সবুজ দুই রংয়ের আবির উৎপাদন হচ্ছে। কিন্তু পাহাড়-সমতলে গেরুয়া আবিরের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। ওই চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়েছে।”
শিলিগুড়ি বিধান মার্কেটের আবির বিক্রেতা কমল সাহা জানান, ১৫ টাকা দামের আবিরের প্যাকেট কেউ চাইছে না। ৫০০ টাকা দামে বস্তা কিনে নিয়ে যাচ্ছে। বলে যাচ্ছে আরও লাগতে পারে। কমলবাবুও বলেন, “এবার সবুজ আবির বিক্রি যে হচ্ছে না, সেটা নয়। হচ্ছে, তবে গেরুয়া আবিরের চাহিদা খুব বেশি। এর আগের কোনও নির্বাচনে এমনটা দেখা যায়নি।” আগামী ৪ মে ভোট গণনা। ভোটের ফলাফল নিয়ে পাড়ার আড্ডা থেকে বাজারে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। তারই মধ্যে মূলত দুটি দলের কর্মী-সমর্থক অকালহোলির প্রস্তুতিতে মেতে উঠেছেন, সেটি নজরকাড়া। এমনই বলছে ওয়াকিবহাল মহল।
ব্যবসায়ী এবং উৎপাদন সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, শিলিগুড়ি থেকে আবির পৌঁছে যাচ্ছে কোচবিহার থেকে মালদহ উত্তরের প্রতিটি জেলায়। তৃণমূল এবং বিজেপি দুই দলের তরফে অকাল হোলির জন্য এখন আবির কিনে মজুতের কাজ চলছে। বস্তায় বস্তায় আবির পৌঁছাতে শুরু করেছে পাহাড়েও। শিলিগুড়ি মহাবীরস্থানের এক আবির বিক্রেতা জানান, এক সময় ভোট এলে লাল আবির মজুত করতে হয়েছে। এখন সেটা নেই। লাল আবির কেউ চাইছে না। গেরুয়া আবিরের জন্য বেশি খদ্দের ভিড় করছে।