দুই দফার বিধানসভা নির্বাচন নির্বিঘ্নেই মিটেছে। তবে, ২৯ তারিখ দ্বিতীয় দফার ভোটের পর থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্ত অশান্তি শুরু হয়েছে।
এলাকার বাসিন্দারা কংগ্রেসকে ভোট দিয়েছেন, এই সন্দেহে বহরমপুর শহরের ধোপঘাটিতে পানীয় জলের নলকূপই খুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল পরিচালিত বহরমপুর পুরসভার বিরুদ্ধে। পুরসভার পিছনে ধোপঘাটি বসতিতে ৬০টি পরিবারের বাস। বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, কয়েক দিন আগে ওই পাড়ায় থাকা একমাত্র নলকূপটি পুরসভা খুলে নিয়ে যায়। চালু কল কেন খুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন করলে জানানো হয়, কয়েক দিন পরে ওই কল লাগিয়ে দেওয়া হবে।
কিন্তু ছ’দিন কেটে গেলেও কল বসেনি। বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভোটের প্রচারের সময় কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। তপতী হালদার নামে এক বাসিন্দা বলেন, ‘‘আমরা দাদাকে (অধীর চৌধুরী) মালা পরিয়েছিলাম। সেই রাগেই এমন করে থাকবে ওরা।’’ শুক্রবার সকালে ওই এলাকায় গিয়ে লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন অধীর। তিনি জানান, আজ, শনিবারের মধ্যে ওই নলকূপ ফের বসিয়ে না দিলে বাসিন্দাদের নিয়ে তিনি পুরসভা ঘেরাও করবেন। বহরমপুর-মুর্শিদাবাদ সাংগাঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি অপূর্ব সরকারের দাবি, ‘‘ভিত্তিহীন অভিযোগ। নলকূপ খারাপ হলে পুরসভা তুলতেই পারে। সেটি সারিয়ে দেওয়া বা নতুন করে পোঁতা হয়। এখন নির্বাচনী আচরণবিধি চালু থাকায় নতুন করে নলকূপ পুঁততে কমিশনের অনুমতি লাগবে।’’
বৃহস্পতিবার রাতে মুর্শিদাবাদেরই রানিনগরের নওদাপাড়ায় সিপিএমের এক পোলিং এজেন্টকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। শুক্রবার সকালে রানিনগরের সিপিএম প্রার্থী জামাল হোসেন সেখানে গেলে তাঁকেও শাসানি দেওয়া হয় অভিযোগ। সমাজমাধ্যমে এই ঘটনার একটি ভিডিয়ো ছড়িয়েছে। তাতে দেখা গিয়েছে, জামালকে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা বলে আঙুল উঁচিয়ে শাসাচ্ছেন এক তৃণমূল নেতা। বহরমপুরে জামাল সাংবাদিক বৈঠকে অভিযোগ করেন, ‘‘রানিনগরের লোচনপুরে পঞ্চায়েতে গত তিন-চারটি ভোটে ভোটারদের ভোট দিতে দেয়নি তৃণমূল। এ বার মানুষ ভোট দিয়েছেন। তার পরেই তৃণমূল অত্যাচার শুরু করেছে।’’ অপূর্ব পাল্টা বলেন, ‘‘সিপিএম বরাবর রানিনগরে গোলমাল পাকায়। কোনও অভিযোগ থাকলে তারা কমিশনের অধীনে থাকা পুলিশ বা প্রশাসনকে জানাক।’’
বহরমপুর ও রানিনগরের ঘটনায় নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জমা পড়েছে বলে সূত্রের খবর। জেলা নির্বাচনী আধিকারিক তথা জেলাশাসক আর অর্জুন বলেন, ‘‘অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।’’
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতার বঙ্গনগর ২ পঞ্চায়েতের হাশিমনগরে তৃণমূলের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তুলে শুক্রবার জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ, বিজেপি সমর্থক সন্দেহে ১০৭ ও ১০৯ নম্বর বুথের কয়েক জনকে বৃহস্পতিবার মারধর করে তৃণমূলের লোকজন। প্রায় দু’ঘণ্টা অবরোধ চলে। ফলতার বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা বিক্ষোভে যোগ দেন। পরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী পরিস্থিতি সামাল দেয়। স্থানীয়দের দাবি মেনে এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা করা হয়েছে। তৃণমূল অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বৃহস্পতিবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জের দুলদুলি পঞ্চায়েতের মঠবাড়ি এলাকায় তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। উভয় পক্ষের কয়েক জন আহত হয়েছে। ভোটের দিন বুথে এজেন্ট বসানো নিয়ে গোলমালের সূত্রপাত। ওই রাতেই ভাঙড় থানার নলমুড়ি এলাকায় এক তৃণমূল কর্মীর দোকান আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আইএসএফের বিরুদ্ধে। অভিযোগ মানেনি আইএসএফ।