ভোট পরবর্তী অশান্তি রুখতে পুলিশ-কেন্দ্রীয় বাহিনীর আগাম যৌথ রুটমার্চ শুরু
বর্তমান | ০২ মে ২০২৬
অলকাভ নিয়োগী, বিধাননগর: মূল লক্ষ্য ছিল অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। তার জন্য কমিশনের গাইডলাইন মেনে আগাম তৎপরতা নিয়েছিল বিধাননগর কমিশনারেট। ২৯ এপ্রিল শান্তিতেই মিছেটে ভোট। সল্টলেক থেকে নিউটাউন, রাজারহাট থেকে বাগুইআটি। কোথাও কোনও গণ্ডগোল হয়নি। ভোটের মতো ভোট পরবর্তী অশান্তি রুখতে আগাম যৌথ রুটমার্চ শুরু করেছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। বুধবার ভোট মেটার পর বৃহস্পতিবার থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে সেই রুটমার্চ। প্রতিটি থানা এলাকায় এই রুটমার্চ চলছে। কমিশনারেটের দাবি, এলাকার শান্তি যাতে বিঘ্নিত না হয়, তার জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
হিংসা, ভীতি প্রদর্শন, ছাপ্পা, বুথ দখল রুখতে নির্বাচন কমিশন ৬টি গাইডলাইন কার্যকর করার জন্য ভোটের আগেই সব থানাকে নির্দেশ দিয়েছিল। তারপরই তৎপরতা শুরু হয়। ২০২১ সালে যে সব অঞ্চলে বিক্ষিপ্ত অশান্তি হয়েছিল, সেইসব এলাকায় পুলিশ ও বাহিনী পরিদর্শনও করেছিল ভোটের আগে। সরাসরি ভোটারদের মুখ থেকে শোনা হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে কেউ ভয়ে রয়েছেন কি না। প্রায় সকলেই দাবি করেছিলেন, অশান্তি নেই। ভোটে তার প্রতিফলনও হয়েছে। বিধাননগর কমিশনারেটের মধ্যে বিধাননগর, রাজারহাট-গোপালপুর এবং রাজারহাট-নিউটাউন এই তিনটি কেন্দ্র রয়েছে। বুধবার তিনটিতেই নির্বিঘ্নে ভোট সম্পন্ন হয়েছে। ৩ কেন্দ্রে প্রার্থী সংখ্যা ৩৫ জন। ভোটার ৬ লক্ষ ৯০ হাজার ৪১২ জন। কিন্তু, কোনও অশান্তির খবর আসেনি। ভোটের দিন শান্তি বজায় রাখতে কমিশনারেটের বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে ৮৫ জনকে প্রিভেনটিভ অ্যারেস্ট করা হয়েছে।
ফলাফল কী হয় এখন তার দিকেই নজর সকলের। ২০২১ সালে এই তিনটি কেন্দ্রেই তৃণমূল কংগ্রেস জয়ী হয়েছিল। এবারও বিধাননগরের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সুজিত বসু, রাজারহাট-গোপালপুরের তৃণমূল প্রার্থী অদিতি মুন্সি এবং রাজারহাট-নিউটাউনের তৃণমূল প্রার্থী তাপস চট্টোপাধ্যায় জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী। পুলিশ জানিয়েছে, ভোটের মতো ফলাফলের দিনও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা থাকবে। ভোট পরবর্তী অশান্তি রুখতে রুটমার্চের সঙ্গে এলাকায় ২৪ ঘণ্টা নজরদারিও চলছে।