• থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত শিশুকে বাঁচাতে রক্ত দিলেন পুলিশ আধিকারিক
    এই সময় | ০২ মে ২০২৬
  • এখনও শেষ হয়নি রাজ্যের নির্বাচন প্রক্রিয়া। স্ট্রংরুমে বন্দি ইভিএম। পাহারা দেওয়ার সঙ্গেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে ব্যস্ত পুলিশ আধিকারিকরাও। তবে নিজের কর্তব্য পালন করার মধ্যেই মানবিকতার নজির গড়লেন রাজগঞ্জ থানার আইসি অমিতাভ দাস। থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত এক শিশুর প্রাণ বাঁচাতে এগিয়ে এলেন তিনি।

    ধূপগুড়ির বাসিন্দা সুভাষ দাসের তিন বছরের কন্যা সুরেনা দাস দীর্ঘদিন ধরে থ্যালাসেমিয়ায় (Thalassemia) আক্রান্ত। নিয়মিত রক্তের উপরই নির্ভর করছে তার জীবন। বি নেগেটিভ গ্রুপের রক্ত সুরেনার। শুক্রবার জরুরি ভিত্তিতে রক্তের প্রয়োজন পড়ে শিশুটির। কিন্তু ওই গ্রুপের রক্ত পাওয়া যাচ্ছিল না। দিশেহারা হয়ে পড়ে সুরেনার পরিবার। এই খবর পৌঁছয় নর্থ বেঙ্গল নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপের সদস্য পম্পার কাছে। তিনি দ্রুত বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ শুরু করেন।

    খবর পেয়ে সমস্ত ব্যস্ততা সরিয়ে জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ছুটে আসেন রাজগঞ্জ (Rajganj) থানার আইসি। তাঁরও একই গ্রুপের রক্ত। তাই শিশুর প্রাণ বাঁচাতে এক মুহূর্ত দেরি করেননি তিনি।

    অমিতাভ দাস জানান, ধূপগুড়ির (Dhupguri) ওই শিশু থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত এবং তার বি নেগেটিভ রক্তের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু রক্ত খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। বিষয়টি জানার পরই তিনি রক্ত দিতে চলে যান। তিনি বলেন, ‘এটাকে মানবিক কর্তব্য বলেই আমি মনে করি।’

    উল্লেখ্য, বি নেগেটিভ রক্ত অত্যন্ত অপ্রতুল। সেই কারণে ব্লাড ব্যাঙ্কের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে এই পুলিশ আধিকারিকের। এর আগেও যাঁদের বি নেগেটিভ রক্তের প্রয়োজন হয়েছে, তাঁদের জন্য একাধিকবার রক্তদান (blood donation) করেছেন অমিতাভ দাস।

    পুলিশের এই মানবিক ভূমিকায় কৃতজ্ঞ শিশুটির পরিবার। পাশাপাশি আইসির এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন চিকিৎসক থেকে সাধারণ মানুষ সকলেই।

  • Link to this news (এই সময়)