এই কাজ না করলে বন্ধ হতে পারে রান্নার গ্যাসের কানেকশন, সরকারের নয়া নিয়ম
আজ তক | ০২ মে ২০২৬
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে গ্যাস ও তেল আমদানি আগে থেকে অনেকাংশ কমে গেছে। যার ফলে ভারতে গ্যাসের দাম বাড়ছে। মানুষ আতঙ্কিত হয়ে 'প্যানিক বাই' করছে। যে কারণে, সরকার এলপিজি বুকিং এবং বিতরণ সংক্রান্ত কিছু নিয়ম কঠোর করেছে, যা ১ মে থেকে দেশব্যাপী কার্যকর হবে।
এই নিয়মগুলোর মধ্যে একটি হলো ডুয়াল গ্যাস সংযোগ সংক্রান্ত। সরকার জানিয়েছে, যদি একটি এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার সংযোগ থাকে এবং বাড়িতে বা তার কাছাকাছি একটি পিএনজি পাইপলাইন সংযোগও থাকে, তবে অবশ্যই এলপিজি সিলিন্ডারটি ছেড়ে দিতে হবে। যদি তা না করেন, তবে তেল কোম্পানিগুলো গ্যাস সরবরাহ করবে না। কেওয়াইসি (KYC) নির্দেশিকাও অনুসরণ করতে হবে; কেওয়াইসি ছাড়া সিলিন্ডার রিফিল করার অনুমতি দেওয়া হবে না।
এর ফলে ১ মে থেকে অনেক পরিবার ভর্তুকিযুক্ত রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার পাওয়ার সুযোগ হারাবে। তেল কোম্পানিগুলোর দ্বারা বাস্তবায়িত এই নতুন নিয়মগুলোর লক্ষ্য হলো ডুয়াল গ্যাস সংযোগ, ভর্তুকিযুক্ত সিলিন্ডারের অপব্যবহার এবং নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্ট রোধ করা।
E-KYC যাচাই করা
যদি LPG সংযোগ থাকে, তবে অবিলম্বে আধার-ভিত্তিক E-KYC যাচাই করা উচিত। যেসব গ্রাহকের আধার কার্ড যাচাই করা অসম্পূর্ণ রয়েছে, তা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তারা সিলিন্ডার ডেলিভারি নাও পেতে পারেন। কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছ, যেসব গ্রাহক ইতিমধ্যে যাচাই সম্পন্ন করেছেন, তাদের এই প্রক্রিয়াটি পুনরায় করার প্রয়োজন হবে না।
এছাড়াও, অনেক এলাকায় ওটিপি-ভিত্তিক ডেলিভারি বাধ্যতামূলক হচ্ছে। গ্রাহকরা তাদের রেজিয়্টার মোবাইল নম্বরে একটি ডেলিভারি যাচাই কোড পাবেন। ওটিপি যাচাইয়ের পরেই সিলিন্ডার সরবরাহ করা হবে। প্রতিবেদন অনুসারে, দেশীয় সিলিন্ডারের মজুতদারি এবং বাণিজ্যিক কারসাজি কমানোর প্রচেষ্টায় তেল কোম্পানিগুলোও বুকিংয়ের মধ্যে ন্যূনতম ব্যবধান বাড়াচ্ছে।
যাঁরা ২০২৫ সালের জুনের আগে এলপিজি সিলিন্ডার রিফিল করেছেন, তাঁদেরও যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হল সেইসব গ্রাহকদের, যাদের কেওয়াইসি (KYC) রেকর্ড অসম্পূর্ণ বা পুরনো। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যে পরিবারগুলো ২০২৫ সালের জুনের আগে এলপিজি সিলিন্ডার রিফিল করেছে, তাঁদের সম্ভাব্য নিষ্ক্রিয় ব্যবহারকারী হিসেবে গণ্য করা হবে। এই ধরনের গ্রাহকরা তাঁদের ই-কেওয়াইসি (e-KYC) যাচাই করা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নতুন সিলিন্ডার অর্ডার করতে পারবেন না।
ডুয়াল গ্যাস সংযোগ আর নয়
তদন্তের আওতায় থাকা আরেকটি বিভাগ হল সেইসব পরিবার যাদের ইতিমধ্যেই পিএনজি পাইপলাইন সংযোগ রয়েছে। ডুয়াল গ্যাস সংযোগ থআকা পরিবারগুলোকে শনাক্ত করতে কর্মকর্তারা এলপিজি এবং পিএনজি ডেটাবেস রেজিস্টার করছেন। অনেক ক্ষেত্রে, সক্রিয় পিএনজি সংযোগ থাকা ব্যবহারকারীরা ভর্তুকিযুক্ত এলপিজি রিফিল বা এমনকি নতুন এলপিজি সংযোগ পাওয়ার যোগ্যতা হারাতে পারেন।